বাগেরহাটে নারী সিম বিক্রয়কর্মীর ওপর নির্মম ধর্ষণ: গ্রেপ্তার ৩

বাগেরহাটে এক নারী সিম কার্ড বিক্রয়কর্মীর ওপর দলবদ্ধ ধর্ষণের মর্মান্তিক ঘটনায় স্থানীয় জনগণ ও সামাজিক মাধ্যমগুলোতে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। শুক্রবার বিকেলে ভুক্তভোগী নারী বাগেরহাট সদর মডেল থানায় মামলা দায়ের করার পর পুলিশ তিনজন অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে। ঘটনাটি বৃহস্পতিবার রাতে সদর উপজেলার সিঅ্যান্ডবি বাজার এলাকায় সংঘটিত হয়।

ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ

মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ২১ বছর বয়সী ওই নারী একটি মোবাইল অপারেটর কোম্পানির সিম কার্ড বিক্রির কাজ করেন। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় এক ব্যক্তি তাঁকে ফোন করে সিঅ্যান্ডবি বাজারে সিম কেনার জন্য ডাকেন। বিশ্বাস করে তিনি সেখানে পৌঁছালে কাউকে না পেয়ে রাত ৮টার দিকে বাড়ি ফেরার পথে খুলনা-বাগেরহাট মহাসড়কের পাকা ব্রিজের কাছে এক যুবক তাঁর মুখ চেপে ধরে সেতুর নিচে নিয়ে যায়। সেখানে আরও দুইজন মিলে তাঁকে ধর্ষণ করে এবং ভিডিও ধারণ করে।

পরবর্তীতে স্থানীয়দের সহায়তায় পুলিশ অভিযুক্ত তিনজনকে শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন:

  • সজীব দাশ (১৯), করোরী গ্রাম
  • লিখন দাস (২০), করোরী গ্রাম
  • শেখ নজরুল ইসলাম (৪০), করোরী গ্রাম

পুলিশের তৎপরতা ও আইনি ব্যবস্থা

বাগেরহাটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. শামীম হোসেন জানান, ভুক্তভোগীর বক্তব্য ও প্রমাণের ভিত্তিতে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মামলাটি দ্রুত তদন্তের আওতায় নিয়ে আসা হয়েছে এবং ধর্ষণের ভিডিও ফুটেজ জব্দ করার চেষ্টা চলছে। পুলিশ ভুক্তভোগী নারীকে নিরাপদ হেফাজতে রেখেছে এবং তাঁর সাক্ষ্য গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া হচ্ছে।

সমাজে নারী নিরাপত্তার প্রশ্ন

এই ঘটনা নারী নিরাপত্তা ও সমাজে নারীর প্রতি সহিংসতা রোধে কঠোর পদক্ষেপের必要性 আবারও তুলে ধরেছে। নারী কর্মক্ষেত্রে, বিশেষ করে যেসব নারী একাকী বা রাতে কাজ করেন, তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।

কী করা উচিত?

  • নারী কর্মীদের জন্য নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা
  • দ্রুত বিচার নিশ্চিত করে অপরাধীদের কঠোর শাস্তি দেওয়া
  • সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি করে নারী-পুরুষ সমতার বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া

শেষ কথা

এই ঘটনা আমাদের সমাজের অন্ধকার দিকটি আবারও স্মরণ করিয়ে দিয়েছে। নারীদের প্রতি সহিংসতা রোধে সকলে একযোগে কাজ করলে তবেই কেবল একটি নিরাপদ ও ন্যায়বিচারভিত্তিক সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব। আশা করা যায়, দোষীদের দ্রুত বিচার হবে এবং ভুক্তভোগী নারী ন্যায়বিচার পাবেন।

আরও পড়ুন: ইপিজেডে শিশু ধর্ষণের চেষ্টা: অপরাধী আটক, সমাজের করণীয় কী?

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top