বলিউডের জনপ্রিয় গায়িকা অরিজিৎ সিং সম্প্রতি প্লেব্যাক থেকে অবসরের ইঙ্গিত দিয়ে ভক্তদের মন খারাপ করে দিয়েছিলেন। সেই রেশ কাটতে না কাটতেই এবার নিজের ক্যারিয়ার ও গানের মান নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন সুরসম্রাজ্ঞী শ্রেয়া ঘোষাল। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে গাওয়া ‘চিকনি চামেলি’র মতো অশালীন বা কুরুচিপূর্ণ শব্দের গানে তিনি আর কখনোই কণ্ঠ দেবেন না।
ভুল থেকে শিক্ষা: অতীতের জন্য অনুশোচনা
সম্প্রতি উদ্যোক্তা রাজ শামানীর একটি পডকাস্টে অংশ নিয়ে শ্রেয়া তার সংগীত জীবনের এই গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের কথা শেয়ার করেন। তিনি অকপটে স্বীকার করেন যে, অতীতে গাওয়া কিছু গানের কথা এখন তাকে অস্বস্তিতে ফেলে। বিশেষ করে ‘চিকনি চামেলি’র মতো আইটেম সং নিয়ে তিনি বলেন:
“এখন যখন সেই গানটির কথা ভাবি, তখন নিজের মধ্যেই এক ধরণের লজ্জা কাজ করে। আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি, এ ধরণের অশালীন শব্দসমৃদ্ধ গান আর কখনোই রেকর্ড করব না।”
কেন এই পরিবর্তন?
শ্রেয়া জানান, যখন তিনি সেই গানটি গেয়েছিলেন, তখন তার বয়স ও অভিজ্ঞতা দুটিই কম ছিল। গানের কথাগুলোর গভীর অর্থ বা সমাজে এর প্রভাব সম্পর্কে তখন তার ধারণা স্বচ্ছ ছিল না। তবে সময়ের সাথে সাথে তার চিন্তাভাবনা ও রুচির পরিবর্তন ঘটেছে। তিনি মনে করেন, অনেক গানে নারীদের কেবল ‘ভোগের বস্তু’ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। বিশেষ করে শিশুরা যখন না বুঝে এসব গান গায়, তখন একজন শিল্পী হিসেবে তিনি অপরাধবোধে ভোগেন।
প্রলোভন ও প্রত্যাখ্যান
জনপ্রিয়তার মোহে পড়ে নিজের নীতির সাথে আপস করতে রাজি নন এই শিল্পী। শ্রেয়া প্রকাশ করেন যে, ‘চিকনি চামেলি’ সুপারহিট হওয়ার পর তার কাছে একই ধরণের অসংখ্য গানের প্রস্তাব এসেছিল। এমনকি তার ঘনিষ্ঠ সুরকার বন্ধুরাও তাকে অনুরোধ করেছিলেন একই ধাঁচের গানে কণ্ঠ দিতে। কিন্তু তিনি দৃঢ়তার সাথে সেই সব প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছেন।
সমালোচনার জবাব
উল্লেখ্য, এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম রেডিটে শ্রেয়াকে নিয়ে কিছুটা সমালোচনা হয়েছিল। অনেকে তাকে ‘দ্বিচারী’ বলে আখ্যা দিয়েছিলেন এই যুক্তিতে যে, তিনি নিজেই কনসার্টে এই গানগুলো গেয়ে থাকেন। পডকাস্টে সেই সমালোচনার জবাব দিয়ে তিনি বুঝিয়ে দিলেন, শিল্পী হিসেবে তিনি এখন অনেক বেশি পরিণত এবং গানের ভাষা নির্বাচনে অনেক বেশি সতর্ক।

