এএফসি নারী এশিয়ান কাপের মঞ্চে আজ এক বাঁচা-মরার লড়াইয়ে নামছে বাংলাদেশ। প্রতিপক্ষ শক্তিশালী উজবেকিস্তান। গ্রুপ ‘বি’-তে নিজেদের প্রথম দুই ম্যাচে বাংলাদেশ ও উজবেকিস্তান—উভয় দলই হারের তেতো স্বাদ পেয়েছে। তবে আজকের ম্যাচটি দুই দলের জন্যই টুর্নামেন্টে টিকে থাকার শেষ সুযোগ। যারা জিতবে, তিন গ্রুপের সেরা তৃতীয় দল হিসেবে তাদের সামনে খুলে যাবে পরবর্তী রাউন্ড বা কোয়ার্টার ফাইনালের দরজা। লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা তাই কোনোভাবেই এই সুযোগ হাতছাড়া করতে চান না।
ভেন্যু ও বিশেষ স্মৃতি
পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার শান্ত-শীতল শহর পার্থের রেক্টাঙ্গুলার স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় আজ বিকেল ৩টায় ম্যাচটি শুরু হবে। এই মাঠটির সাথে বাংলাদেশের ফুটবলের এক পুরনো স্মৃতি জড়িয়ে আছে। প্রায় এক যুগ আগে ২০১৫ সালে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে জামাল ভূঁইয়ার নেতৃত্বাধীন পুরুষ দল এই ভেন্যুতেই অস্ট্রেলিয়ার মুখোমুখি হয়েছিল। যদিও সেবার ৫-০ গোলের বড় ব্যবধানে হারতে হয়েছিল, তবে আজ সেই একই আঙিনায় নতুন ইতিহাস লিখতে মুখিয়ে আছেন আফঈদা খন্দকাররা।
লড়াই যখন র্যাংকিংয়ের সাথে
ফিফা র্যাংকিংয়ের বিচারে দুই দলের ব্যবধান আকাশ-পাতাল। উজবেকিস্তান যেখানে ৪৯তম অবস্থানে, বাংলাদেশ সেখানে ১১২ নম্বরে। অর্থাৎ শক্তির বিচারে প্রতিপক্ষ ৬৩ ধাপ এগিয়ে। তবে মাঠের লড়াইয়ে এই পরিসংখ্যানকে তুড়ি মেরে উড়াতে চায় বাংলাদেশ। প্রথম দুই ম্যাচে চীন ও উত্তর কোরিয়ার কাছে হারলেও, সেই অভিজ্ঞতাকে পুঁজি করে আজ ঘুরে দাঁড়াতে মরিয়া সাবিনা-আফঈাদারা।
কোচের কৌশল ও অধিনায়কের প্রত্যয়
ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ দলের প্রধান কোচ পিটার বাটলার জানান, তারা কেবল রক্ষণভাগ সামলাতেই মাঠে নামবেন না। তিনি বলেন:
“আমরা রক্ষণাত্মক ফুটবল খেলার চেয়ে আক্রমণাত্মক মেজাজে থাকতেই বেশি পছন্দ করি। এটি আমাদের সহজাত ধরন। উজবেকিস্তানের বিপক্ষে আমরা নিজেদের স্টাইলেই খেলব এবং প্রেসিং ফুটবল উপহার দেওয়ার চেষ্টা করব।”
অন্যদিকে, অধিনায়ক আফঈদা খন্দকার দেশের ফুটবল অবকাঠামোর উন্নতির প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে জয়ের ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে ‘ইঁদুর-বেড়াল’ লড়াইয়ের ইঙ্গিত থাকলেও শেষ পর্যন্ত জয় নিয়ে মাঠ ছাড়তে চায় বাংলাদেশ।
আরও পড়ুন: ইতিহাস গড়ে বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল: প্রথমবারের মতো এশিয়ান কাপে উত্তীর্ণ!
