ইসলামের পঞ্চস্তম্ভের অন্যতম হলো জাকাত, আর রমজান মাসের বিশেষ ইবাদত হলো সদকাতুল ফিতর। অনেক সময় আমরা এই দুটি বিষয়ের পার্থক্য এবং আদায়ের সঠিক নিয়ম নিয়ে বিভ্রান্তিতে পড়ি। আজকের নিবন্ধে আমরা সদকাতুল ফিতর ও জাকাতের নিসাব এবং আদায়ের পূর্ণাঙ্গ বিধান সম্পর্কে জানব।
সদকাতুল ফিতর কার ওপর ওয়াজিব?
যেসব মুসলিম নর-নারীর মালিকানায় মৌলিক প্রয়োজনের অতিরিক্ত সাড়ে সাত ভরি সোনা অথবা সাড়ে বায়ান্ন ভরি রুপা অথবা এর সমমূল্যের সম্পদ ঈদুল ফিতরের দিন সুবহে সাদিকের সময় বিদ্যমান থাকবে, তার ওপর সদকাতুল ফিতর আদায় করা ওয়াজিব।
উল্লেখ্য যে, নিজের পাশাপাশি নিজের অপ্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের পক্ষ থেকেও ফিতরা আদায় করা অভিভাবকের দায়িত্ব। এমনকি বার্ধক্য বা অসুস্থতার কারণে যারা রমজানের রোজা রাখতে পারেননি, তারাও যদি নিসাব পরিমাণ মালের মালিক হন, তবে তাদের ওপরও ফিতরা ওয়াজিব হবে।
জাকাত ও ফিতরার নিসাবের পার্থক্য
জাকাত এবং ফিতরার নিসাবের ক্ষেত্রে একটি মৌলিক পার্থক্য রয়েছে। জাকাত ওয়াজিব হওয়ার জন্য নিসাব পরিমাণ সম্পদ মালিকানায় আসার পর পূর্ণ এক বছর অতিবাহিত হতে হয়। কিন্তু সদকাতুল ফিতর ওয়াজিব হওয়ার জন্য বছর অতিক্রান্ত হওয়া শর্ত নয়; ঈদুল ফিতরের দিন সকালে নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক থাকলেই তা ওয়াজিব হয়ে যায়।
ফিতরা প্রদানের সঠিক নিয়ম ও পাত্র
যাদেরকে জাকাত দেওয়া যায়, ঠিক তাদেরকেই সদকাতুল ফিতর প্রদান করতে হয়। তবে কিছু নিকটাত্মীয়কে ফিতরা প্রদান করা জায়েজ নেই। যেমন:
নিজের মাতা-পিতা, দাদা-দাদি, নানা-নানি (ঊর্ধ্বতন বংশধর)।
নিজে সন্তান-সন্ততি এবং নাতি-নাতনি (অধস্তন বংশধর)।
স্বামী-স্ত্রী একে অপরকে ফিতরা দিতে পারবেন না।
একজন গরিবকে একজনের ফিতরার সমপরিমাণ দান করা উত্তম, তবে প্রয়োজনের খাতিরে কম-বেশি করাও বৈধ।
ফিতরা আদায়ের দ্রব্য ও পরিমাণ
ইসলামি শরিয়ত অনুযায়ী প্রধানত পাঁচটি দ্রব্য বা তার সমমূল্য দিয়ে ফিতরা আদায় করা যায়:
গম বা আটা: সর্বনিম্ন ১ কেজি ৬৩৫ গ্রাম (বা এর বাজারমূল্য)।
যব: কমপক্ষে ৩ কেজি ২৭০ গ্রাম (বা এর বাজারমূল্য)।
কিশমিশ: কমপক্ষে ৩ কেজি ২৭০ গ্রাম (বা এর বাজারমূল্য)।
খেজুর: কমপক্ষে ৩ কেজি ২৭০ গ্রাম (বা এর বাজারমূল্য)।
পনির: কমপক্ষে ৩ কেজি ২৭০ গ্রাম (বা এর বাজারমূল্য)।
বর্তমান প্রেক্ষাপটে ফিতরার বাজারমূল্য
আমাদের দেশে সাধারণত গমের বাজারমূল্য অনুযায়ী সর্বনিম্ন ফিতরা নির্ধারণ করা হয়, যা বর্তমানে প্রায় ১১০ টাকা। তবে সামর্থ্যবানদের জন্য কেবল সর্বনিম্নটুকু আদায় না করে অন্যান্য দ্রব্যের মূল্যে আদায় করা অধিকতর সওয়াবের কাজ। বর্তমান বাজার অনুযায়ী সম্ভাব্য হিসাব:
যব: ৫৯৫ টাকা
খেজুর: ২৪৭৫ টাকা
কিশমিশ: ২৬৪০ টাকা
পনির: ২৮০৫ টাকা
সবাই যদি সর্বনিম্ন হারে ফিতরা আদায় করেন, তবে সমাজের দরিদ্র শ্রেণির মানুষের বিশেষ কোনো উপকার হয় না। তাই আপনার সামর্থ্য অনুযায়ী সর্বোচ্চ মানের দ্রব্য দিয়ে ফিতরা আদায় করার চেষ্টা করুন।
আরও পড়ুুন: পৃথিবীতে সবচেয়ে বড় যুদ্ধ যার সাথে যার হবে?
