ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ক্যাম্পাসে আবারও শিক্ষার্থী নির্যাতনের এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। এবার ‘ছাত্রলীগ’ সন্দেহে রাহিদ খান নামে এক শিক্ষার্থীকে নিষ্ঠুরভাবে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর মা পারভীন আক্তার সোমবার রাতে রাজধানীর শাহবাগ থানায় একটি এজাহার দায়ের করেছেন।
ঘটনার বিবরণ ও নির্যাতনের ভয়াবহতা
এজাহারের তথ্যমতে, ভুক্তভোগী রাহিদ খানকে তিন দফায় পৈশাচিক নির্যাতন চালানো হয়। প্রথমে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শহীদ মিনারের সামনে তাকে আক্রমণ করা হয়। এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এস এম হলের সামনে এবং সর্বশেষ শাহবাগ থানার সামনেও তাকে মারধর করা হয়।
হামলাকারীরা লোহার রড এবং স্টিলের পাইপ দিয়ে রাহিদের মাথায় আঘাত করার চেষ্টা করে। এই হামলায় রাহিদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে গভীর ক্ষত সৃষ্টি হয়েছে, তার ডান হাতের আঙুল ভেঙে গেছে এবং বাঁ কানে গুরুতর আঘাত পেয়েছেন তিনি। বর্তমানে তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
অভিযুক্তদের পরিচয়
শাহবাগ থানায় দায়ের করা এজাহারে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০ জন শিক্ষার্থীর নাম সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। তারা হলেন:
মো. সাইফুল্লাহ (ব্যবস্থাপনা, ২০২০-২১, মুহসীন হল)
হাসিব আল ইসলাম (সমাজবিজ্ঞান, ২০২০-২১, বঙ্গবন্ধু হল)
সাঈদ আফ্রিদী (সংস্কৃত, ২০২২-২৩, মুহসীন হল)
রিয়াদ মাল (আন্তর্জাতিক সম্পর্ক, ২০২১-২২, সূর্যসেন হল)
সর্দার নাদিম মোহাম্মদ শুভ (দর্শন, ২০২১-২২, সূর্যসেন হল)
মো. সাকিব (আন্তর্জাতিক সম্পর্ক, ২০২১-২২, জিয়াউর রহমান হল)
ফোরকান উদ্দীন মাহি (সমাজবিজ্ঞান, ২০২০-২১, বঙ্গবন্ধু হল)
বায়েজিদ হাসান (দর্শন, ২০২১-২২, মুহসীন হল)
হিমেল (স্বাস্থ্য অর্থনীতি, ২০২০-২১, সূর্যসেন হল)
সজীব হোসেন (ফলিত গণিত, ২০২১-২২, শহীদুল্লাহ হল)
এছাড়াও অজ্ঞাতনামা আরও ১০ থেকে ১৫ জনকে এই হামলায় অভিযুক্ত করা হয়েছে।
লুটপাট ও পুলিশের ভূমিকা
এজাহারে আরও অভিযোগ করা হয়েছে যে, মারধরের সময় অভিযুক্তরা রাহিদের কাছ থেকে একটি স্মার্টফোন, নগদ ৫ হাজার টাকা, তার মোটরসাইকেল এবং এটিএম কার্ড ছিনিয়ে নিয়ে যায়।
শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান ও পরিদর্শক (অপারেশনস) খোকন মিয়া এজাহার প্রাপ্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তারা জানান, প্রক্টোরিয়াল টিমের সহায়তায় ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
আরও পড়ুন: এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সাড়ে ১৩ হাজার পদে প্রায় ৭৯ হাজার আবেদন


