কুমিল্লার হোমনায় এক নৃশংস ঘটনার খবর পাওয়া গেছে। যাতায়াতের পথে অটোরিকশা থামিয়ে স্বামীকে আটকে রেখে এক গৃহবধূকে (২০) ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী বাদী হয়ে হোমনা থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। পুলিশ অভিযুক্তদের গ্রেফতারে অভিযান শুরু করেছে।
ঘটনার বিবরণ
স্থানীয় ও মামলা সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী গৃহবধূ ও তার স্বামী হোমনা পৌর এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করেন। বুধবার (১৫ এপ্রিল) রাত সাড়ে ৯টার দিকে তারা ব্যাটারিচালিত একটি অটোরিকশাযোগে তিতাস উপজেলার উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিলেন।
তাদের বহনকারী অটোরিকশাটি যখন স্থানীয় কৃষি কলেজ এলাকা অতিক্রম করছিল, ঠিক তখন ওপারচর গ্রামের আশিকুর রহমান (২৪) এবং তার ৬-৭ জন সহযোগী দুটি মোটরসাইকেল নিয়ে দম্পতির পথরোধ করে।
স্বামীকে আটকে রেখে বর্বরতা
অভিযুক্তরা জোরপূর্বক অটোরিকশাটি ঘুরিয়ে একটি নির্জন ইটের রাস্তার দিকে নিয়ে যায়। সেখানে পৌঁছানোর পর দুর্বৃত্তরা দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে। একদল ওই নারীর স্বামীকে এবং অটোরিকশা চালককে ভয়ভীতি দেখিয়ে দূরে সরিয়ে নিয়ে যায়। অন্যদলে থাকা আশিকুর রহমান ও তার দুই সহযোগী গৃহবধূকে জিম্মি করে ফেলে। এই নির্জন স্থানেই আশিকুর রহমান ওই নারীকে ধর্ষণ করেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
চিকিৎসা ও পুলিশের বক্তব্য
ঘটনার পর ওই দম্পতি দ্রুত হোমনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পৌঁছান। হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক মো. শহিদ উল্লাহ জানান, রাত ৩টার দিকে তারা হাসপাতালে আসেন। প্রাথমিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে এবং আইনি সহায়তার প্রয়োজনে তাদের পুলিশের কাছে পাঠানো হয়। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসা ও ডিএনএ পরীক্ষার জন্য ভুক্তভোগীকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (OCC) পাঠানো হয়েছে।
হোমনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) টমাস বড়ুয়া ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান:
“ভুক্তভোগী নারী নিজে বাদী হয়ে মামলা করেছেন। আমরা প্রধান আসামি আশিকুর রহমানসহ জড়িত অন্যদের শনাক্ত করতে পেরেছি। অপরাধীদের গ্রেফতারে পুলিশের একাধিক টিম মাঠে কাজ করছে। কোনো অপরাধীকে ছাড় দেওয়া হবে না।”
এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং স্থানীয়রা দোষীদের দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
আরও পড়ুন: ঢাবিতে ‘ছাত্রলীগ’ সন্দেহে শিক্ষার্থীকে দফায় দফায় মারধর: ১০ জনের বিরুদ্ধে মায়ের এজাহার


