২০২৬ সালের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হতে যাচ্ছে আগামী ২১ এপ্রিল থেকে। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে পরীক্ষা গ্রহণ করা হবে। তত্ত্বীয় (লিখিত) পরীক্ষা চলবে ২০ মে পর্যন্ত। এরপর ৭ জুন থেকে ১৪ জুনের মধ্যে ব্যবহারিক পরীক্ষা সম্পন্ন করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার ১৫ জানুয়ারি ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক এবং আন্তঃশিক্ষা বোর্ড পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক এস এম কামাল উদ্দিন হায়দার স্বাক্ষরিত পরীক্ষার পূর্ণাঙ্গ সময়সূচি প্রকাশ করা হয়।
উল্লেখ্য, সাধারণত প্রতি বছর ফেব্রুয়ারিতে এসএসসি এবং এপ্রিলে এইচএসসি পরীক্ষা শুরু হলেও সাম্প্রতিক পরিস্থিতির কারণে গত বছর ও চলতি বছরে এই ধারাবাহিকতায় পরিবর্তন এসেছে।
পরীক্ষার্থীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা
পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য শিক্ষা বোর্ড বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা জারি করেছে। পরীক্ষার্থী ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান—উভয়ের জন্যই এসব নির্দেশনা মেনে চলা বাধ্যতামূলক।
১. পরীক্ষার সময় ও উপস্থিতি
-
পরীক্ষা শুরুর ৩০ মিনিট আগে পরীক্ষার্থীদের অবশ্যই নিজ নিজ আসনে বসতে হবে।
-
প্রশ্নপত্রে নির্ধারিত সময় অনুযায়ীই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।
২. পরীক্ষার ধরন
-
প্রথমে বহুনির্বাচনি (MCQ) এবং পরে সৃজনশীল/রচনামূলক (তত্ত্বীয়) পরীক্ষা নেওয়া হবে।
-
দুই অংশের মাঝে কোনও বিরতি থাকবে না।
৩. প্রবেশপত্র সংক্রান্ত নির্দেশনা
-
পরীক্ষার্থীদের প্রবেশপত্র পরীক্ষা শুরুর কমপক্ষে তিন দিন আগে নিজ নিজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধানের কাছ থেকে সংগ্রহ করতে হবে।
-
পরীক্ষা শুরুর অন্তত সাত দিন আগে প্রবেশপত্র বিতরণ নিশ্চিত করার দায়িত্ব প্রতিষ্ঠান প্রধানের।
৪. ধারাবাহিক মূল্যায়ন ও ব্যবহারিক নম্বর
-
শারীরিক শিক্ষা, স্বাস্থ্য বিজ্ঞান ও খেলাধুলা এবং ক্যারিয়ার শিক্ষা বিষয়গুলোর নম্বর এনসিটিবি’র নির্দেশনা অনুযায়ী ধারাবাহিক মূল্যায়নের মাধ্যমে নির্ধারণ করা হবে।
-
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো এসব নম্বর সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রের মাধ্যমে বোর্ডের ওয়েবসাইটে অনলাইনে পাঠাবে।
৫. উত্তরপত্র ও ওএমআর ফরম পূরণ
-
পরীক্ষার্থীদের ওএমআর ফরমে রোল নম্বর, রেজিস্ট্রেশন নম্বর ও বিষয় কোড সঠিকভাবে লিখে নির্ধারিত ঘর পূরণ করতে হবে।
-
কোনও অবস্থাতেই উত্তরপত্র ভাঁজ করা যাবে না।
৬. পাসের শর্ত
-
সৃজনশীল/রচনামূলক, বহুনির্বাচনি ও ব্যবহারিক—প্রতিটি অংশে আলাদাভাবে পাস করতে হবে।
৭. বিষয় নির্বাচন
-
পরীক্ষার্থী শুধুমাত্র নিবন্ধনপত্রে উল্লেখিত বিষয়গুলোতেই পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবে।
-
ভিন্ন বিষয়ে পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার কোনও সুযোগ নেই।
৮. ক্যালকুলেটর ও মোবাইল ব্যবহার
-
বোর্ড অনুমোদিত ক্যালকুলেটর ব্যবহার করা যাবে।
-
কেন্দ্রসচিব ছাড়া অন্য কেউ বা কোনও পরীক্ষার্থী মোবাইল ফোন বহন বা ব্যবহার করতে পারবে না।
৯. উপস্থিতি পত্র
-
সৃজনশীল, বহুনির্বাচনি ও ব্যবহারিক—সব পরীক্ষার জন্য একই উপস্থিতি পত্র ব্যবহার করা হবে।
১০. ব্যবহারিক পরীক্ষা
-
ব্যবহারিক পরীক্ষা স্ব স্ব পরীক্ষাকেন্দ্রেই অনুষ্ঠিত হবে।
১১. ফল পুনর্নিরীক্ষণ
-
ফলাফল প্রকাশের সাত দিনের মধ্যে অনলাইনে পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করতে হবে।
-
আবেদন প্রক্রিয়া, সময়সূচি ও তারিখ শিক্ষা বোর্ডগুলোর ওয়েবসাইট এবং দৈনিক পত্রিকার মাধ্যমে জানানো হবে।
শেষ কথা
এসএসসি পরীক্ষা একজন শিক্ষার্থীর জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। তাই সময়সূচি ও নির্দেশনাগুলো ভালোভাবে জেনে প্রস্তুতি নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। নিয়ম মেনে পরীক্ষায় অংশ নিলে অনাকাঙ্ক্ষিত জটিলতা এড়ানো সম্ভব হবে।
সবার জন্য রইল শুভকামনা। ✨📚
আরও পড়ুন: ডিগ্রিতে দেশ সেরা শামীমা – সন্তান কোলে নিয়েই এই সাফল্য!

