Azgar Ali

Loading Bangladesh Time... 00:00 AM

আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস ও আস্থা মানুষকে অনেক দূর নিয়ে যায়

আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস ও আস্থা যে মানুষকে অনেক দূর নিয়ে যায়, তার প্রমাণ আমি নিজেই। এটা খুব সহজ একটি কথা। কিন্তু মানুষ সেই সময় পর্যন্ত বিশ্বাস করতে চায় না, যতক্ষণ না সে নিজে তার প্রমাণ পায়। মানুষের জীবনে যদি শুধু সুখ থাকত, তাহলে মানুষ অনেক কিছুই অনুধাবন করতে পারত না। কষ্ট, অভাব, ব্যর্থতা এবং অপেক্ষার মধ্য দিয়েই অনেক সময় মানুষ জীবনের প্রকৃত অর্থ বুঝতে শেখে।

ছোটবেলা থেকেই কষ্টের সঙ্গে বেড়ে ওঠা

আমার জীবনের কথা যদি বলি, আমি সেই ছোটবেলা থেকেই কষ্ট দেখতে দেখতে বড় হয়েছি। কষ্ট ছিল আমাদের পরিবারের নিত্যদিনের সঙ্গী। পর্যাপ্ত খাবারের অভাব, বিনোদনের অভাব, শিক্ষার অভাব, ভালোবাসার অভাব—এমন আরও অনেক অভাব আমাদের জীবনের অংশ ছিল। কিন্তু তারপরও আমি কখনো পুরোপুরি ভেঙে পড়িনি। হয়তো আমার রবের ওপর কোনো এক অদৃশ্য আস্থা সব সময়ই ছিল।

আজ যখন এই কথাগুলো লিখছি, সেই সময়টাও আমার জন্য খুবই কঠিন। বর্তমানে আমার প্রায় ৪ থেকে ৫ লাখ টাকা ঋণ রয়েছে। একটি স্বনামধন্য মেডিসিন কোম্পানিতে চাকরি করছি। কিন্তু চাকরি থাকা সত্ত্বেও প্রতিনিয়ত হিমশিম খেতে হয়। অভাব-অনটন লেগেই থাকে। আসলে এই মেডিসিন কোম্পানির চাকরিগুলো কেমন, তা যারা করেন, তারাই ভালো জানেন।

তবে আমি সুস্থ আছি এবং সর্বাবস্থায় বলি—আলহামদুলিল্লাহ। কারণ, দুনিয়াটা মানুষের জন্য একটি পরীক্ষার হল। এখানে আমরা যে অবস্থার মধ্য দিয়ে যাচ্ছি, যে সিদ্ধান্ত নিচ্ছি এবং যে কাজ করছি—সবকিছুরই হিসাব একদিন দিতে হবে। তাই জীবনে যত কঠিন পরিস্থিতিই আসুক, একজন মুমিনের উচিত আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ না হওয়া।

যখন মনে হয়, আর পারছি না

আমার এত এত টাকার অভাব—কখনো কখনো মনে হয়, আর পারব না, সব শেষ। কিন্তু ঠিক পরক্ষণেই আল্লাহ কোনো না কোনোভাবে একটি ব্যবস্থা করে দেন। কখনো মানুষের মাধ্যমে, কখনো কোনো সুযোগের মাধ্যমে, আবার কখনো এমনভাবে, যা আমি আগে কল্পনাও করিনি। আল্লাহ তায়ালার সেই রহমতের কারণেই আজও আমি দাঁড়িয়ে আছি।

আমার বয়স এখন ৩০ বছর। কিছুদিন পরেই ৩১ বছরে পা দেব। এই বয়সেই জীবনের যত ঝামেলা সামলে নিয়েছি, মহান আল্লাহ আমার ওপর রহমত না করলে আমি হয়তো অনেক আগেই ভেঙে পড়তাম। এত কিছু সহ্য করা আমার একার পক্ষে সম্ভব ছিল না। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো, আমরা এত বিপদের মধ্যেও আল্লাহর ইবাদত করতে আলসেমি করি।

পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ সময়মতো পড়ি না। কখনো ইবাদতে অলসতা করি, কখনো দুনিয়ার ব্যস্ততাকে অজুহাত বানাই। আরও কত অপরাধ করি, যার হিসাব হয়তো আমাদের নিজেদের কাছেই নেই। অথচ সেই রবই প্রতিনিয়ত আমাদের সুযোগ দিচ্ছেন, সময় দিচ্ছেন, শ্বাস নেওয়ার সুযোগ দিচ্ছেন এবং ফিরে আসার দরজা খোলা রাখছেন।

আল্লাহর ওপর ভরসা কখনো বৃথা যায় না

আমি বিশ্বাস করি, কোনো মানুষ যদি আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও ঈমান রেখে জীবন পরিচালনা করে, তাহলে তার কোনো প্রচেষ্টাই অর্থহীন নয়। এর অর্থ এই নয় যে, তার জীবনে কখনো কষ্ট আসবে না বা সে কখনো ব্যর্থ হবে না। বরং কখনো কখনো ব্যর্থতা, কষ্ট ও অপেক্ষাও আল্লাহর পক্ষ থেকে পরীক্ষা হতে পারে।

মানুষের জীবনে যা কিছু ঘটে, তার প্রকৃত রহস্য আমরা সব সময় বুঝতে পারি না। কোনো ঘটনা আমাদের জন্য পরীক্ষা হতে পারে, কোনোটি আমাদের ভুলের ফল হতে পারে, আবার কোনো ঘটনার মধ্যে এমন কল্যাণ লুকিয়ে থাকতে পারে, যা আমরা তখন বুঝতে পারি না। প্রকৃত জ্ঞান মহান আল্লাহ তায়ালার কাছেই।

তাই জীবনে কোনো কিছু আমাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী না ঘটলেই হতাশ হয়ে যাওয়া উচিত নয়। আমাদের কাজ হলো চেষ্টা করা, দোয়া করা এবং আল্লাহর ওপর ভরসা রাখা।

তাহাজ্জুদের কান্নার পর যে স্বস্তি আসে

আমি যখন রাতের আঁধারে আল্লাহর কাছে তাহাজ্জুদ নামাজ পড়ে কান্নাকাটি করেছি, তখন অনেকবার তার কিছুদিন পর আমার জীবনে এক ধরনের স্বস্তি অনুভব করেছি। যে সমস্যার সমাধানকে খুব কঠিন মনে হয়েছে, সেটাই কোনো এক অদ্ভুত উপায়ে সহজ হয়ে গেছে তখন মনে হয়েছে, আমি যে বিষয়টাকে অসম্ভব ভাবছিলাম, আল্লাহর কাছে সেটা কতই না সহজ!

কিন্তু মানুষ বড়ই বিস্ময়কর। বিপদ কেটে গেলে আবার আগের অবস্থায় ফিরে যায়। আমরা আবার নামাজ পড়া বাদ দিই। মন চাইলে পড়ি, না চাইলে পড়ি না। অথচ বিপদের সময় আমরা সেই আল্লাহকেই কতটা আন্তরিকভাবে ডাকি!

আসলে আমরা যদি প্রকৃত সত্যটা বুঝতে পারতাম, তাহলে হয়তো আমাদের জীবন অনেকটাই বদলে যেত।

রাতের নির্জনতায় আল্লাহর কাছে ফিরে যাওয়া

রাতের আঁধারে একাকী দুহাত তুলে আল্লাহর কাছে কান্নাকাটি করলে মানুষের অন্তরে এক ধরনের প্রশান্তি আসে। অনেক সমস্যার সমাধান হয়তো সঙ্গে সঙ্গে আসে না, কিন্তু সমস্যার সঙ্গে লড়াই করার শক্তি আসে। কখনো পরিস্থিতি বদলে যায়, আবার কখনো পরিস্থিতিকে দেখার দৃষ্টিভঙ্গিটাই বদলে যায়।

আমি নিয়মিত চেষ্টা করার পরও মাঝে মাঝে তাহাজ্জুদ নামাজ পড়তে পারি না। তখন নিজের ভেতরেই খুব কষ্ট হয়। মনে হয়, যে রব আমাকে এত কিছু দিয়েছেন, তাঁর জন্য আমি কি আরও একটু সময় দিতে পারি না? এই প্রশ্নটা আমাদের সবারই নিজেদের কাছে করা দরকার।

দুনিয়ার সাফল্য আর প্রকৃত শান্তি এক নয়

পৃথিবীতে আমরা দেখি, কেউ অনেক টাকা-পয়সার মালিক, কেউ বড় বাড়ির মালিক, কেউ দামি গাড়িতে চলাফেরা করেন। আবার কেউ খুব সাধারণ জীবনযাপন করেন। কিন্তু অর্থ, সম্পদ ও বাহ্যিক সাফল্য সব সময় অন্তরের শান্তির নিশ্চয়তা দেয় না।

একজন মানুষ পৃথিবীতে অনেক পরিশ্রম করে অর্থ উপার্জন করতে পারেন এবং তার কর্মের ফলও পেতে পারেন। কিন্তু একজন মুসলিম হিসেবে আমাদের মনে রাখতে হবে, দুনিয়ার সাফল্যই জীবনের চূড়ান্ত সাফল্য নয়। আমাদের দৃষ্টিতে দুনিয়ার জীবনের পাশাপাশি পরকালের জীবনও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

মুসলিম হিসেবে আমাদের দায়িত্ব অন্যদের প্রতি বিদ্বেষ ছড়ানো নয়; বরং সুন্দর আচরণ, জ্ঞান, যুক্তি ও উত্তম চরিত্রের মাধ্যমে ইসলামের সৌন্দর্যের দিকে মানুষকে আহ্বান করা। একই সঙ্গে আমাদের নিজেদের জীবনও সংশোধন করতে হবে। কারণ, নিজের জীবনেই যদি ইসলামের শিক্ষা বাস্তবায়ন না করি, তাহলে অন্যকে কীভাবে সঠিক পথে ডাকব?

আজ অনেক সময় দেখা যায়, একজন মুসলিম আরেকজন মুসলিমকে উপদেশ দিচ্ছেন, কিন্তু নিজের আমল ও চরিত্রের দিকে তাকাচ্ছেন না। অথচ দাওয়াতের শুরু হওয়া উচিত নিজের সংশোধন থেকেই।

অল্পে তুষ্ট থাকার মধ্যেও শান্তি আছে

আমি একটা বিষয় খুব করে মানি—মানুষের চাওয়া-পাওয়ার কোনো শেষ নেই। আপনি যদি শুধু পৃথিবীতেই শান্তি খুঁজতে থাকেন, তাহলে একটার পর একটা চাহিদা আপনার সামনে আসতেই থাকবে।

চারপাশে তাকালে দেখবেন, কিছু মানুষের হয়তো অনেক টাকা-পয়সা আছে, কিন্তু তারা বিন্দুমাত্র সুখে নেই। ঢাকায় যারা ফ্ল্যাট কেনেন বা বাড়ি তৈরি করেন, তাদের অনেকেই ঋণ, কিস্তি ও ভবিষ্যতের আর্থিক দায়বদ্ধতার মধ্যে থাকেন। বাড়ি করার পরও দুশ্চিন্তা শেষ হয় না; বরং অনেক সময় নতুন দুশ্চিন্তা শুরু হয়।

ঋণের বোঝা, পরিবারের খরচ, সন্তানের ভবিষ্যৎ, ব্যবসার চিন্তা—সব মিলিয়ে মানুষের জীবন অনেক সময় দুশ্চিন্তায় ভরে যায়। তাই সুখী হতে হলে নিজের চাওয়া-পাওয়াকে কিছুটা সীমিত রাখা দরকার। অল্পে তুষ্ট থাকা দরকার।

আমরা যদি নিজের অবস্থান থেকে একটু নিচের দিকে তাকাই, তাহলে দেখতে পাব—আমাদের চেয়ে আরও কত মানুষ বেশি কষ্টে আছে। অথচ আমরা অনেক সময় আমাদের যা আছে, তার জন্য আল্লাহর শুকরিয়া আদায় না করে যা নেই, সেটার জন্য আফসোস করতেই ব্যস্ত থাকি।

মানুষের চাওয়া-পাওয়ার শেষ নেই

ড. জাকির নায়েকের একটি লেকচারে আমি শুনেছিলাম, মানুষের চাওয়া-পাওয়া কখনো শেষ হয় না। মানুষ সহজে তৃপ্ত হয় না। তার যদি একটি বাড়ি থাকে, তাহলে সে আরেকটি বাড়ি করার জন্য ব্যস্ত হয়ে পড়ে। তার যদি এক কোটি টাকা থাকে, তাহলে সে কীভাবে আরও টাকা উপার্জন করা যায় এবং দুই কোটি টাকা কীভাবে করা যায়, তা নিয়ে ব্যস্ত থাকে।

আর এই কারণেই অনেক সময় মানুষ সুখ নামক জিনিসটাকে ছুঁতে পারে না। ব্যস্ততার মধ্যে ব্যস্ততায় তার পুরো জীবন কেটে যায়, কিন্তু চাওয়া-পাওয়ার শেষ হয় না।

আমার দেখা একজন মানুষের কথা বলি। তার বয়স প্রায় ৬০ বছর। তিনি একটি ফার্মেসি ব্যবসা করেন। তার এখনও অনেক কিছু করার বাকি। নিজের জমিতে তিনতলা একটি ফ্ল্যাট বানাবেন, দোকান আরও বড় করবেন, আরও জমি কিনবেন—এমন আরও কত পরিকল্পনা!

অথচ তার দোকান বেশ বড়। তার নিজস্ব বাড়ি আছে। বাড়ির কিছু কক্ষ ভাড়া দেওয়া আছে, সেখান থেকেও তিনি নিয়মিত ভাড়া পান। তারপরও ভবিষ্যতের পরিকল্পনা ও দুশ্চিন্তায় তার নাকি ঘুম হয় না।

তাহলে বলুন, এই ধরনের মানুষ সুখ কীভাবে পাবে? হয়তো সে জীবনে অনেক কিছু অর্জন করেছে, কিন্তু যদি অর্জনের পরও মনে হয় ‘আরও চাই’, তাহলে সেই চাওয়ার শেষ কোথায়?

অল্পে তুষ্ট হলে পৃথিবী আরও সুন্দর হতো

মানুষ যদি অল্পে তুষ্ট থাকতে পারত, তাহলে পৃথিবী হয়তো আরও সুন্দরভাবে চলত। পৃথিবীতে এত বিশৃঙ্খলা থাকত না। এত মারামারি, হানাহানি, কাটাকাটি ও ঝগড়াঝাঁটি হতো না। মানুষে মানুষে এত শত্রুতা তৈরি হতো না।

মানুষের অসীম চাহিদা অনেক সমস্যার অন্যতম কারণ। অবশ্য পৃথিবীর সব সমস্যার জন্য শুধু চাহিদাকেই একমাত্র কারণ বলা যাবে না। কিন্তু লোভ, অহংকার, অতিরিক্ত ভোগের আকাঙ্ক্ষা এবং অন্যের অধিকার দখলের প্রবণতা যে মানুষের জীবনে অনেক অশান্তি তৈরি করে, তা অস্বীকার করার উপায় নেই।

পৃথিবী যতদিন থাকবে, মানুষের চাহিদাও ততদিন থাকবে। উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে মানুষ যদি নৈতিকতা, মানবতা ও আত্মসংযমকে ভুলে যায়, তাহলে সেই উন্নতি একসময় ধ্বংসের কারণও হতে পারে।

আজ আমাদের চারপাশে এমন কিছু ঘটনাও দেখা যায়, যেখানে মানুষের প্রতি মানুষের কোনো মায়া-মমতা নেই। মানুষ মানুষকে হত্যা করতেও দ্বিধা করছে না। মানবতা যেন অনেক সময় স্বার্থের কাছে পরাজিত হচ্ছে।

আমার কাছে শান্তির অর্থ কী?

তারপরও আমি নিজেকে নিয়ে সন্তুষ্ট থাকার চেষ্টা করি। আমি অনেক কষ্টে দিন পার করছি। আমার অর্থনৈতিক সংকট আছে, সংসারে টানাপোড়েন আছে, ঋণের চাপ আছে। কিন্তু দিনশেষে আমি আমার রবের কাছে কৃতজ্ঞ।

কারণ, তিনি আমাকে সুস্থ রেখেছেন। আমি একটি ছাদের নিচে ঘুমাতে পারছি। আমার মা বেঁচে আছেন। আমার পরিবার আছে। আমি কাজ করার সুযোগ পাচ্ছি। আমি এখনও আমার রবকে ডাকতে পারছি। সত্যি বলতে, এই বিষয়গুলোও তো অনেক বড় নিয়ামত।

আল্লাহ যদি আমার জন্য আরও ভালো কিছু লিখে রাখেন, তাহলে আমি অবশ্যই তা পাব। আর যদি কোনো কিছু আমার জন্য নির্ধারিত না থাকে, তাহলে সেটার জন্য অতিরিক্ত অস্থির হয়ে কী লাভ?

চেষ্টা করব, কিন্তু রবকে ভুলে নয়

এটা বলব না যে আমি চেষ্টা করছি না। আমি তো চেষ্টা করেই যাচ্ছি। কাজ করছি, নিজের অবস্থার উন্নতির জন্য চেষ্টা করছি, ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবছি। কিন্তু আমার চেষ্টাটা শুধু ‘যেকোনো মূল্যে কিছু পেতেই হবে’—এমন নয়।

বরং আমি চাই, আমার উদ্দেশ্য যেন আমাকে ইসলাম থেকে বিচ্যুত না করে। আমার উপার্জনের আকাঙ্ক্ষা যেন আমাকে আমার রবকে ভুলিয়ে না দেয়। আমার সফলতার স্বপ্ন যেন আমার নামাজ, ইবাদত, নৈতিকতা ও মানবিকতাকে ধ্বংস না করে। কারণ, পৃথিবীতে সবকিছু পাওয়ার পরও যদি আমি আমার রবকে হারিয়ে ফেলি, তাহলে আসলে আমি কী পেলাম?

আমার রব আমাকে কোটি কোটি মানুষের তুলনায় কত ভালো রেখেছেন—এটা ভাবলেই আমার অন্তর কৃতজ্ঞতায় ভরে যায়। তাঁর প্রশংসা করতে গেলে সারা দুনিয়ার সমস্ত কাগজে লিখলেও শেষ হবে না। কোটি কোটি পৃথিবীর কাগজ দিয়েও হয়তো তাঁর নিয়ামত ও মহিমার প্রশংসা শেষ করা সম্ভব নয়।

কারণ, রবের প্রশংসার কোনো শেষ নেই। আর আমাদের মানুষের জ্ঞান অত্যন্ত সীমাবদ্ধ। এই সীমাবদ্ধ জ্ঞান নিয়েই আমরা নিজেদের কতটা বুদ্ধিমান মনে করি! অথচ মহান আল্লাহ তায়ালার জ্ঞান ও ক্ষমতার সামনে আমাদের জ্ঞান কতই না ক্ষুদ্র!

আমরা যদি সত্যিই একটু চিন্তা করতাম, একটু উপলব্ধি করতাম, তাহলে হয়তো আমাদের জীবন অনেকটাই বদলে যেত।

পৃথিবী পরীক্ষার হল

পৃথিবী আসলে আমাদের জন্য একটি পরীক্ষার হল। এখানে কেউ অর্থের মাধ্যমে পরীক্ষা দিচ্ছে, কেউ অভাবের মাধ্যমে, কেউ সুস্থতার মাধ্যমে, কেউ অসুস্থতার মাধ্যমে, কেউ ক্ষমতার মাধ্যমে, আবার কেউ নিজের সীমাবদ্ধতার মাধ্যমে।

তাই অন্যের জীবন দেখে নিজের জীবনকে ছোট মনে করার কোনো কারণ নেই। যে মানুষকে আমরা খুব সফল মনে করছি, সেও হয়তো এমন কোনো পরীক্ষার মধ্যে আছে, যার খবর আমরা জানি না।

আমাদের কাজ হলো নিজের পরীক্ষায় মনোযোগ দেওয়া। অন্যের সঙ্গে নিজের জীবন তুলনা না করে আল্লাহ আমাদের যা দিয়েছেন, তার জন্য শুকরিয়া আদায় করা এবং যা প্রয়োজন, তার জন্য হালাল পথে চেষ্টা করা।

শেষ কথা

আজ আমার জীবনে অনেক অভাব। ঋণ আছে, দুশ্চিন্তা আছে, ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা আছে। কিন্তু তারপরও আমি বিশ্বাস করি—আমার রব আছেন।

আমি জানি না আগামীকাল কী হবে। জানি না আমার ঋণ কীভাবে পরিশোধ হবে। জানি না জীবনে আর কত পরীক্ষা আসবে। কিন্তু আমি এটুকু জানি, আমি একা নই। আমি আমার রবের কাছে আছি এবং তিনি আমার অবস্থা জানেন।

তাই আমার কাছে আল্লাহর ওপর ভরসা মানে বসে থাকা নয়। বরং নিজের সর্বোচ্চ চেষ্টা করা, হালাল পথে চলা, ভুল হলে ফিরে আসা, বিপদে ধৈর্য ধরা, নিয়ামত পেলে শুকরিয়া আদায় করা এবং সবশেষে ফলাফলটা আল্লাহর ওপর ছেড়ে দেওয়া।

আমি জানি, আমি অনেক ভুল করি। ইবাদতে অলসতা করি। অনেক সময় এমন কাজ করি, যা করা উচিত নয়। তারপরও আমি আমার রবের রহমত থেকে নিরাশ হতে চাই না।

আমার জন্য আপনারা দোয়া করবেন—আমি যেন কখনো ভুল পথে পা না বাড়াই। আমি যেন আমার রবের সন্তুষ্টিকে দুনিয়ার যেকোনো অর্জনের চেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে পারি। আমি যেন নামাজ ও ইবাদতে আলসেমি না করি। আমার উপার্জন যেন হালাল হয়, আমার মন যেন পরিষ্কার থাকে এবং আমার জীবন যেন আমার রবের সন্তুষ্টির পথে পরিচালিত হয়।

আপনাদের জন্যও আমার দোয়া থাকবে। আল্লাহ আমাদের সবাইকে হেদায়েত দিন, বিপদে ধৈর্য ধরার তাওফিক দিন, নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় করার তাওফিক দিন এবং দুনিয়া ও আখিরাতে কল্যাণ দান করুন।

আলহামদুলিল্লাহি রব্বিল আলামিন।সবার জন্য শুভকামনা ও দোয়া রইল।

আরও পড়ুন: ভুল সিদ্ধান্ত ও ভয়াবহ পরিণতি: আমার জীবনের বাস্তব গল্প

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top