নিজের যত্ন নিন—কারণ সমাজ আপনার ত্যাগ মনে রাখবে না

সম্প্রতি একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে, যেখানে এক নারী তার স্বামীর পরকীয়ার বিষয়ে কথা বলছেন। ভিডিওটি দেখার পর সত্যি বলতে, তার জন্য এক ধরনের মায়া লেগেছে। তিনি দুটি সন্তান বড় করছেন, সংসারের যাবতীয় দায়িত্ব পালন করছেন, অথচ তার স্বামী অন্য নারীর সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়েছেন।

কিন্তু সবচেয়ে হতাশাজনক বিষয়টি ঘটেছে ভিডিওর কমেন্ট সেকশনে। অধিকাংশ মন্তব্য ওই নারীর সৌন্দর্য নিয়ে করা হয়েছে। কেউ লিখেছে, “মায়ের মতো লাগছে!” আবার কেউ ঠাট্টা করে বলেছে, “এমন বউ থাকলে যে কেউ পরকীয়া করত!” শুধু পুরুষ নয়, কিছু নারীর মন্তব্যও ছিল ব্যঙ্গাত্মক ও অবমাননাকর।

এখন প্রশ্ন হলো, এই নারী কি বিয়ের সময় এমন ছিলেন? নিশ্চয়ই না! তিনি তখনও সুন্দরী ছিলেন, বলেই হয়তো তার স্বামী তাকে জীবনসঙ্গী হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন। তাহলে আজ কেন তার এই পরিবর্তন?

এর উত্তর খুবই সহজ—সংসার, স্বামী, সন্তান, আত্মীয়স্বজন সামলাতে গিয়েই তিনি নিজের দিকে নজর দেওয়ার সুযোগ পাননি। স্বামীর দায়িত্বহীনতা, শ্বশুরবাড়ির মানসিক চাপ, ঘরের প্রতিদিনের কাজ—সব মিলিয়ে হয়তো নিজের যত্ন নেওয়ার সময় বা ইচ্ছেটাই হারিয়ে ফেলেছেন। দিনশেষে, তার ত্যাগ বা কষ্টের কোনো মূল্য নেই, বরং তার বাহ্যিক সৌন্দর্য নিয়েই সবাই মন্তব্য করছে।

তাই, নারীরা—নিজেকে উপেক্ষা করবেন না!

এই সমাজ আপনার আত্মত্যাগ মনে রাখবে না। আপনি দিনরাত স্বামী, সন্তান ও সংসারের পেছনে ছুটে চললেও, কেউ এসে বলবে না, “তুমি কেমন আছো?” তাই নিজের জন্য সময় বের করতেই হবে।

🔹 নিজের যত্ন নিন – ভালো স্কিনকেয়ার প্রোডাক্ট ব্যবহার করুন, নিয়মিত ফেসওয়াশ, ময়েশ্চারাইজার লাগান।
🔹 নিজেকে সুন্দর রাখুন – শুধু ঘর সাজানোর জন্য নয়, নিজের জন্যও ভালো পোশাক কিনুন, নিজেকে ফিট রাখতে চেষ্টা করুন।
🔹 মন ভালো রাখার জন্য কিছু করুন – গান শুনুন, বই পড়ুন, একান্ত কিছু সময় শুধু নিজের জন্য রাখুন।
🔹 নিজের পছন্দের কাজ করুন – রান্না, শপিং, ভ্রমণ বা যেকোনো শখ যা আপনাকে আনন্দ দেয়, সেটার জন্য সময় রাখুন।

কারণ, বাস্তবতা হলো—যদি আপনি নিজেকে ভালোবাসতে না পারেন, তাহলে এই সমাজও আপনাকে ভালোবাসবে না। তাই নিজের গুরুত্ব বোঝুন, নিজেকে সময় দিন, নিজের যত্ন নিন। আপনিই গুরুত্বপূর্ণ!

আরও পড়ুন: আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস: ইতিহাস ও স্বীকৃতির পথ

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top