নেত্রকোণায় কিশোরী ধর্ষণ: প্রেমের নামে নারকীয় অপরাধ, গ্রেপ্তার ৩

সম্প্রতি নেত্রকোণার মোহনগঞ্জে এক মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে, যা সমাজের অন্ধকার দিককে আবারও উন্মোচিত করেছে। প্রেমের নামে ফাঁদে ফেলে এক কিশোরীকে দলবেঁধে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। পুলিশ দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে। ঘটনাটির বিস্তারিত জানা যাক।


ঘটনার সংক্ষিপ্ত বিবরণ

মোহনগঞ্জ উপজেলার এক কিশোরী (১৭) প্রেমের সম্পর্কের ফাঁদে পড়ে ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। অভিযোগ অনুযায়ী, আজিজুল ইসলাম নামের এক যুবক ইমো অ্যাপের মাধ্যমে কিশোরীর সাথে পরিচয় হয় এবং ধীরে ধীরে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ১৬ এপ্রিল রাতে আজিজুল তাকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে মোহনগঞ্জের আলোকদিয়া সেতুর কাছে ডেকে নিয়ে যায়। সেখানে আজিজুল ও তার বন্ধু রফিক মোটরসাইকেলে করে তাকে সুনামগঞ্জের হাওর এলাকায় নিয়ে যান এবং ধর্ষণ করেন। পরে আরেক বন্ধু সাকিবও একই কাজ করে।

ভয়াবহ বিষয় হলো, তারা এই নৃশংসতার ভিডিও রেকর্ড করে কিশোরীকে শারীরিক ও মানসিকভাবে চাপে রাখে। ঘটনার পর ভয়ে কিশোরী কাউকে কিছু জানায়নি, তবে অসুস্থ হয়ে পড়লে পরিবারের কাছে কিছু প্রকাশ করেন।


পুলিশের তৎপরতা ও গ্রেপ্তার

ঘটনার এক সপ্তাহ পর, মঙ্গলবার রাতে কিশোরীর বড় ভাই মামলা দায়ের করেন। এরপর পুলিশ তদন্ত চালিয়ে আজিজুল, রফিক ও সাকিবকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারকৃতরা সবাই সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার বাসিন্দা এবং পেশায় রাজমিস্ত্রী।

মোহনগঞ্জ থানার ওসি মো. আমিনুল ইসলাম জানান, ধর্ষণ ও ভিডিও ধারণের অভিযোগে তিনজনই স্বীকারোক্তিমূলক জবানদিহি করেছে। তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে এবং রিমান্ডের জন্য আবেদন করা হবে।


সমাজের করণীয়

এ ধরনের ঘটনা শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জন্যই চ্যালেঞ্জ নয়, এটি সমাজের নৈতিক অবক্ষয়েরও পরিচয়। কিছু প্রশ্ন আমাদের ভাবতে বাধ্য করে:

  1. ডিজিটাল মাধ্যমের অপব্যবহার: সামাজিক মাধ্যমের মাধ্যমে কীভাবে সহজেই অপরাধীরা শিকার বেছে নিচ্ছে?

  2. কিশোর-কিশোরীদের সচেতনতা: বাবা-মা ও শিক্ষকদের উচিত সন্তানদের ইন্টারনেট সুরক্ষা ও সচেতনতা সম্পর্কে শিক্ষা দেওয়া।

  3. দ্রুত বিচার নিশ্চিতকরণ: ধর্ষণের মতো সংবেদনশীল মামলাগুলো দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে নিষ্পত্তি করা প্রয়োজন।


শেষ কথা

এই ঘটনা আমাদের আবারও মনে করিয়ে দিচ্ছে যে নারী ও শিশু নিরাপত্তা এখনও সমাজের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। অপরাধীদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করার পাশাপাশি আমাদের সামাজিক সচেতনতা বাড়াতে হবে। আশা করা যায়, ভুক্তভোগী পরিবার ন্যায়বিচার পাবে এবং এরকম ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

আরও পড়ুন: মাগুরায় শিশু আছিয়া ধর্ষণ-হত্যা মামলার বিচার শুরু: ন্যায়বিচারের প্রত্যাশা

#নেত্রকোণা #ধর্ষণ #নারীনিরাপত্তা #আইনেরশাসন

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top