বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে নিলামের মাধ্যমে আরও ১২৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার সংগ্রহ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংক ১২২ টাকা ৩০ পয়সা বিনিময় দরে ৮টি বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে এই ডলার কিনেছে।
রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, চলতি ফেব্রুয়ারি মাসেই কেন্দ্রীয় ব্যাংক মোট ১৪৪ কোটি ৮০ লাখ মার্কিন ডলার কিনেছে।
আরিফ হোসেন খান আরও বলেন, চলতি ২০২৪–২৫ অর্থবছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ ব্যাংক মোট ৫৩৮ কোটি ৫০ লাখ ডলার ক্রয় করেছে।
চলতি মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে মুদ্রানীতি ঘোষণার সময় ডলার কেনা প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে গভর্নর আহসান এইচ মনসুর বলেন, বাজার থেকে ডলার না কিনলে টাকার মান আরও দুর্বল হয়ে পড়তে পারত। এতে আমদানি ব্যয় বাড়ার পাশাপাশি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতো।
মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করতেই এই কৌশল গ্রহণ করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার দিন শেষে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল) নির্ধারিত বিপিএম৬ পদ্ধতিতে বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ২৯ দশমিক ৮৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে।
আইএমএফের পরামর্শ অনুযায়ী গত বছরের মে মাসে ডলারের বিনিময় হার বাজারভিত্তিক করে বাংলাদেশ ব্যাংক। তবে পরবর্তীতে গভর্নর স্পষ্ট করেন, এটি কোনো চাপের কারণে নয়; বরং বাজার পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়েই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত বছরের ১৩ জুলাই প্রথমবার নিলামের মাধ্যমে ডলার কেনা শুরু করে বাংলাদেশ ব্যাংক। সেদিন ১২১ টাকা ৫০ পয়সা দরে ১৭ কোটি ১০ লাখ ডলার কেনা হয়েছিল।
সে সময় মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানান, বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে ডলার কেনার অন্যতম উদ্দেশ্য হলো ডলারের দরকে সহনীয় পর্যায়ে রাখা। তিনি বলেন, ডলারের দাম কমে গেলে প্রবাসী আয় ও রপ্তানিকারকেরা ক্ষতির মুখে পড়েন। তাদের স্বার্থ রক্ষায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক এই পদক্ষেপ নিয়েছে।
এর আগেও বিভিন্ন সময়ে নির্ধারিত দরে বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে ডলার কিনেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। তবে নিলাম পদ্ধতিতে ডলার কেনার কার্যক্রম শুরু হয় গত বছর থেকেই।
আরও পড়ুন: আমেরিকা ভ্রমণে নতুন চার্জ: ভিসা ইন্টিগ্রিটি ফি যোগে খরচ বাড়লো কত?


