Azgar Ali

বাংলাদেশ পুলিশে ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবল পদে নিয়োগ শুরু: জানুন আবেদনের নিয়ম ও বাছাইপ্রক্রিয়া

পুলিশ কনস্টেবল নিয়োগ ২০২৬

বাংলাদেশ পুলিশে ২০২৬ সালের ‘ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবল’ (TRC) পদে নিয়োগের বিশাল বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়েছে। দেশের ৬৪ জেলা থেকেই নারী ও পুরুষ প্রার্থীরা এই পদের জন্য আবেদন করতে পারবেন। ৫ মার্চ থেকে অনলাইনে এই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

আবেদনের যোগ্যতা ও শারীরিক মাপকাঠি

পুলিশে কনস্টেবল হতে হলে প্রার্থীদের নির্দিষ্ট কিছু শারীরিক ও শিক্ষাগত যোগ্যতা থাকা বাধ্যতামূলক:

  • শিক্ষাগত যোগ্যতা: ন্যূনতম জিপিএ ২.৫ (GPA 2.5) সহ এসএসসি বা সমমানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে।

  • বয়সসীমা: ১৮ থেকে ২০ বছরের মধ্যে (নির্ধারিত তারিখ অনুযায়ী)।

  • উচ্চতা: * পুরুষ (সাধারণ ও অন্যান্য): ৫ ফুট ৬ ইঞ্চি।

    • পুরুষ (ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী ও মুক্তিযোদ্ধা কোটা): ৫ ফুট ৪ ইঞ্চি।

    • নারী (সকল কোটা): ৫ ফুট ৪ ইঞ্চি (সাধারণ), ৫ ফুট ২ ইঞ্চি (কোটাভেদে)।

  • বুকের মাপ: পুরুষ প্রার্থীদের ক্ষেত্রে স্বাভাবিক অবস্থায় ৩১ ইঞ্চি এবং প্রসারণে ৩৩ ইঞ্চি হতে হবে।

আবেদন করার নিয়ম ও ফি জমা

আগ্রহী প্রার্থীদের সরকারি টেলিটক পোর্টাল police.teletalk.com.bd-এর মাধ্যমে আবেদন করতে হবে।

আবেদনের সময়সীমা: ৫ মার্চ ২০২৬ সকাল ১০টা থেকে শুরু হয়ে ৩১ মার্চ ২০২৬ রাত ১১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত আবেদন করা যাবে।

টেলিটক ফি প্রদান: অনলাইনে ফরম পূরণ শেষে প্রাপ্ত User ID ব্যবহার করে আবেদন ফি (সার্ভিস চার্জ) বাবদ ৪৫ টাকা জমা দিতে হবে।

  • ১ম SMS: TRC <User ID> লিখে পাঠান ১৬২২২ নম্বরে।

  • ২য় SMS: ফিরতি পিনে সম্মতি দিয়ে TRC YES <PIN> লিখে পাঠান ১৬২২২ নম্বরে।

সাত ধাপের কঠিন বাছাইপ্রক্রিয়া

পুলিশে নিয়োগ প্রক্রিয়া এখন অত্যন্ত স্বচ্ছ এবং আধুনিক। যোগ্য প্রার্থী হতে হলে আপনাকে নিচের ধাপগুলো অতিক্রম করতে হবে:

১. প্রিলিমিনারি স্ক্রিনিং: অনলাইনে আবেদনকারীদের মধ্য থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রাথমিক যোগ্যদের তালিকা করা হবে। ২. শারীরিক সক্ষমতা (PET): নির্বাচিতদের তিন দিনের একটি শারীরিক পরীক্ষায় অংশ নিতে হবে। এতে দৌড়, পুশ-আপ, লং ও হাই জাম্প, ড্র্যাগিং এবং রোপ ক্লাইমিংয়ের মতো কঠিন কসরত থাকবে। ৩. লিখিত পরীক্ষা: শারীরিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের ৪৫ নম্বরের লিখিত পরীক্ষা দিতে হবে (বিষয়: বাংলা, ইংরেজি, গণিত ও সাধারণ বিজ্ঞান)। এই ধাপের জন্য ৫৬ টাকা ফি দিয়ে পুনরায় প্রবেশপত্র সংগ্রহ করতে হয়। ৪. মৌখিক ও মনস্তাত্ত্বিক পরীক্ষা: লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের জন্য থাকবে ১৫ নম্বরের ভাইভা। ৫. প্রাথমিক নির্বাচন ও স্বাস্থ্য পরীক্ষা: মৌখিক পরীক্ষার পর জেলাভিত্তিক মেধা তালিকায় স্থান পাওয়া প্রার্থীদের পূর্ণাঙ্গ স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হবে। ৬. পুলিশ ভেরিফিকেশন: নির্বাচিতদের চারিত্রিক ও পারিবারিক তথ্য যাচাই করা হবে। ৭. চূড়ান্ত বাছাই ও প্রশিক্ষণ: সব ধাপ শেষে প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে যোগদানের পর চূড়ান্ত কমিটির যাচাই শেষে মৌলিক প্রশিক্ষণে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।


সতর্কবার্তা: পুলিশে নিয়োগের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের আর্থিক লেনদেন বা দালালের খপ্পরে পড়বেন না। এটি সম্পূর্ণ মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে সম্পন্ন হয়।

আরও পড়ুন: সেভ দ্য চিলড্রেনে চাকরির সুযোগ: অফিসার (সোশ্যাল ওয়ার্ক) পদে নিয়োগ

Leave a Reply

Scroll to Top