ধর্ষণের বিচারে দ্রুত রায়: সরকারের অঙ্গীকার ও বাস্তবতা

সম্প্রতি দেশে ধর্ষণের মতো নৃশংস অপরাধ বেড়ে যাওয়ায় সমাজের প্রতিটি স্তরে ক্ষোভ ও হতাশা ছড়িয়ে পড়েছে। জুলাই গণআন্দোলনে শহীদ এক ব্যক্তির মেয়ে ধর্ষণের শিকার হয়ে আত্মহত্যা করেছেন। অন্যদিকে, মাগুরায় এক শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যার মর্মান্তিক ঘটনায় দেশবাসী স্তম্ভিত। এসব ঘটনায় ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বক্তব্য ও আইনি প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা চলছে।

ধর্ষণ মামলায় দ্রুত বিচার: আইন উপদেষ্টার প্রতিশ্রুতি

অন্তর্বর্তী সরকারের আইন বিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল সাম্প্রতিক এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে ধর্ষণ মামলার বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন। তিনি বলেন, “আমরা শোকস্তব্ধ, কিন্তু ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে কিছুটা সময় লাগতে পারে। ধর্ষকদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতেই আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”

আসিফ নজরুল ফেসবুক পোস্ট
অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা আসিফ নজরুল এর ফেসবুক পোস্ট থেকে নেয়া

জুলাই গণআন্দোলনে শহীদের মেয়ের মামলা

  • ধর্ষণের শিকার হয়ে মেয়েটি আত্মহত্যা করেন।

  • অভিযুক্ত দুই আসামি গ্রেপ্তার হয়েছে এবং তাদের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে।

  • পুলিশ দ্রুত চার্জশিট দাখিল করবে বলে জানানো হয়েছে।

  • সংশোধিত আইন অনুযায়ী, বিচার শুরু হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে রায় দেওয়া বাধ্যতামূলক।

  • ডিএনএ রিপোর্ট অনুকূলে থাকলে বিচার আরও দ্রুত শেষ হতে পারে।

মাগুরার শিশু ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ড

  • এই মামলায় ইতিমধ্যে চার্জশিট জমা দেওয়া হয়েছে।

  • ডিএনএ প্রমাণ ও আসামির স্বীকারোক্তির কারণে বিচার দ্রুততম সময়ে শেষ হবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়েছে।

  • আদালতের লক্ষ্য, চার্জশিট জমা দেওয়ার ৭ কার্যদিবসের মধ্যে রায় দেওয়া।

ন্যায়বিচারের জন্য কেন অপেক্ষা করতে হয়?

আইন উপদেষ্টা তার বক্তব্যে স্পষ্ট করেছেন যে, দ্রুত বিচারকাজের পাশাপাশি রায় যাতে আইনগত দিক থেকে শক্তিশালী হয়, সেটি নিশ্চিত করতে হবে। কারণ, “বিচার যদি ত্রুটিপূর্ণ হয়, উচ্চ আদালতে আপিল হলে রায় পাল্টে যেতে পারে। সেটি হলে ধর্ষকদের বিচারহীনতা আরও বেড়ে যাবে।”

সরকারের পরিকল্পনা

  • ধর্ষণ মামলাগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।

  • ফরেনসিক প্রমাণ (ডিএনএ, মেডিকেল রিপোর্ট) সংগ্রহে জোর দেওয়া হচ্ছে।

  • বিচারিক প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠনের কথা ভাবা হচ্ছে।

সমাজের ভূমিকা: সচেতনতা ও সোচ্চার হওয়া

শুধু আইন ও শাস্তি দিয়ে ধর্ষণ বন্ধ করা সম্ভব নয়। সমাজকেও এগিয়ে আসতে হবে:

  • নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সচেতনতা বাড়ানো।

  • ধর্ষণের ঘটনায় ভুক্তভোগীদের পাশে দাঁড়ানো ও আইনি সহায়তা দেওয়া।

  • অপরাধীদের সামাজিকভাবে বয়কট করা।

উপসংহার

ধর্ষণের মতো জঘন্য অপরাধের বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতা দেখাতে হবে। সরকার দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার চেষ্টা করছে, কিন্তু বিচারিক প্রক্রিয়ার গতি বাড়াতে আরও সংস্কার প্রয়োজন। আমাদের সকলের দায়িত্ব, এমন অপরাধ প্রতিরোধে সক্রিয় ভূমিকা রাখা এবং ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার পেতে সাহায্য করা।

আরও পড়ুন: পুরুষ ধর্ষণ ও বাংলাদেশের আইন: অপ্রকাশিত বাস্তবতা ও আইনি শূন্যতা

#ধর্ষণেরবিচার #ন্যায়বিচার #অপরাধদমন #সচেতনতামূলকব্লগ

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top