বিশ্বকাপ ফুটবলের মহাযজ্ঞ শুরু হতে আর ১০০ দিনও বাকি নেই। মাঠের কৌশলের ছক কষার আগেই ফুটবল দুনিয়ায় শুরু হয়েছে গাণিতিক বিশ্লেষণ। কোন দলের ফুটবলারদের বর্তমান বাজারমূল্য সবচেয়ে বেশি? কেবল পারফরম্যান্স নয়, বরং দলগুলোর আর্থিক রাজত্ব নিয়েও এখন চলছে তুমুল আলোচনা। এই দৌড়ে সবাইকে ছাড়িয়ে বর্তমানে শীর্ষে অবস্থান করছে হ্যারি কেইন ও জুড বেলিংহামের ইংল্যান্ড।
১. ইংলিশদের দামী স্কোয়াড: দেড় বিলিয়ন ইউরোর দাপট
ফুটবলারদের ব্যক্তিগত বাজারমূল্যের হিসেবে এই মুহূর্তে বিশ্বের সবচেয়ে দামী দল ইংল্যান্ড। থ্রি লায়ন্সদের বর্তমান স্কোয়াডের সম্মিলিত মূল্য ১.৫ বিলিয়ন ইউরো ছাড়িয়ে গেছে। জুড বেলিংহাম, ফিল ফোডেন এবং বুকায়ো সাকার মতো একঝাঁক তরুণ তারকার উপস্থিতিতে এই ‘গোল্ডেন জেনারেশন’ এখন অনন্য উচ্চতায়। বিশেষ করে রিয়াল মাদ্রিদ তারকা বেলিংহামের ব্যক্তিগত মূল্যই ১৭০ থেকে ২০০ মিলিয়ন ইউরোর আশেপাশে, যা দলটিকে এই তালিকার শীর্ষে রাখতে বড় ভূমিকা রেখেছে।
২. ফ্রান্স ও স্পেনের রাজত্ব
ইংল্যান্ডের ঠিক পেছনেই অবস্থান করছে গত দুই বিশ্বকাপের ফাইনালিস্ট ফ্রান্স। কিলিয়ান এমবাপ্পের মতো মেগাস্টারের উপস্থিতিতে ফরাসিদের বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ১.৩ বিলিয়ন ইউরো। টেকনিক্যাল স্কিল এবং শারীরিক সক্ষমতার সংমিশ্রণে ফ্রান্স বরাবরের মতোই অন্যতম শক্তিশালী প্রতিযোগী।
অন্যদিকে, তরুণ তুর্কিদের হাত ধরে দ্রুত ওপরে উঠে এসেছে স্পেন। লামিনে ইয়ামাল এবং নিকো উইলিয়ামসের মতো বিস্ময় বালকদের জাদুতে স্প্যানিশদের বাজারমূল্য এখন ১.১ বিলিয়ন ইউরো ছাড়িয়েছে। বিশেষ করে ২০০ মিলিয়ন ইউরো বাজারমূল্যের ইয়ামাল এখন ফুটবল বিশ্বের অন্যতম আকর্ষণ।
৩. লাতিন আমেরিকার লড়াই: ব্রাজিল বনাম আর্জেন্টিনা
ইউরোপীয় দলগুলোর দাপটের মাঝে লাতিন আমেরিকার শক্তি হিসেবে টিকে আছে রেকর্ড পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের মতো হাই-প্রোফাইল তারকাদের ওপর ভর করে সেলেসাওদের বাজারমূল্য এখন প্রায় ১ বিলিয়ন ইউরোর কাছাকাছি।
তবে অবাক করার মতো বিষয় হলো, বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন এবং ফিফা র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে থাকা আর্জেন্টিনা বাজারমূল্যের হিসেবে বেশ পিছিয়ে। আলবিসেলেস্তেদের বর্তমান মূল্য প্রায় ৬০০ মিলিয়ন ইউরো। এর প্রধান কারণ দলের মূল খেলোয়াড়দের বয়স বেড়ে যাওয়া। তবে মেসি-ডি মারিয়াদের উত্তরসূরিরা বারবার প্রমাণ করেছেন যে, মাঠের সংহতি আর জেদই শেষ পর্যন্ত ট্রফি এনে দেয়, কোটি কোটি ইউরোর ট্যাগ নয়।
শেষ কথা: মূল্য নাকি পারফরম্যান্স?
পর্তুগাল বা জার্মানির মতো পরাশক্তিরাও এই দৌড়ে পিছিয়ে নেই। তবে ফুটবলের ইতিহাস আমাদের শেখায়, সবচেয়ে দামী দল হলেই যে চ্যাম্পিয়ন হওয়া যাবে, তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। বাজারমূল্য মূলত খেলোয়াড়দের বর্তমান চাহিদা ও ভবিষ্যতের সম্ভাবনাকে প্রকাশ করে। শেষ পর্যন্ত মাঠের সঠিক কৌশল, দলীয় ঐক্য আর লড়াকু মানসিকতাই নির্ধারণ করবে ২০২৬ বিশ্বকাপের সোনালী ট্রফিটি কার হাতে উঠবে।
আরও পড়ুন: ইতিহাস গড়ে বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল: প্রথমবারের মতো এশিয়ান কাপে উত্তীর্ণ!
