দেশের জ্বালানি খাতের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এবং যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে কঠোর নিরাপত্তার পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে সরকার। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) দেশের প্রধান তেল ডিপোগুলোতে সেনাবাহিনী মোতায়েন এবং ফিলিং স্টেশনগুলোতে পুলিশি টহল জোরদার করার আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব দিয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে জ্বালানি তেলের চাহিদা ও সরবরাহ নিয়ে সৃষ্ট বিভিন্ন গুজবের প্রেক্ষিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
প্রধান ডিপোগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ
বিপিসির চেয়ারম্যান মো. রেজানুর রহমানের স্বাক্ষরিত একটি চিঠিতে জানানো হয়েছে যে, চট্টগ্রামের পতেঙ্গা, খুলনার দৌলতপুর, সিরাজগঞ্জের বাঘাবাড়ি, নারায়ণগঞ্জের গোদনাইল ও ফতুল্লা, দিনাজপুরের পার্বতীপুর এবং বরিশালের তেল ডিপোগুলো দেশের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা বা KPI (Key Point Installation)।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়:
সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে ডিলারদের পক্ষ থেকে হঠাৎ অতিরিক্ত তেলের চাহিদা দেখা দিয়েছে।
ডিপোগুলোতে লোকসমাগম ও উত্তেজনার ফলে ‘অনাকাঙ্ক্ষিত’ পরিস্থিতি তৈরির আশঙ্কা রয়েছে।
জরুরি ভিত্তিতে এসব স্থাপনার সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে সেনাবাহিনীর সহযোগিতা প্রয়োজন।
ফিলিং স্টেশনে শৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশি টহল
অন্য এক চিঠিতে বিপিসি জানিয়েছে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও বিভিন্ন গণমাধ্যমে জ্বালানি মজুত নিয়ে নেতিবাচক খবর ছড়িয়ে পড়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রয়োজনের অতিরিক্ত তেল কেনার প্রবণতা তৈরি হয়েছে।
এই পরিস্থিতি সামাল দিতে বিপিসি ইতোমধ্যে ভোক্তা পর্যায়ে তেল বিক্রির পরিমাণ সীমিত করার নির্দেশনা দিয়ে প্রেস বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে। তবে পাম্পগুলোতে তেল বিক্রির সময় গ্রাহক ও কর্মচারীদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা বা সংঘাতের ঝুঁকি এড়াতে ফিলিং স্টেশনগুলোতে পুলিশি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
বিপিসির আহ্বান ও বর্তমান অবস্থা
বিপিসি স্পষ্ট করেছে যে, দেশে জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। তবে কৃত্রিম সংকট তৈরি বা অননুমোদিতভাবে তেল মজুত করার চেষ্টা রুখতেই এই সতর্কতামূলক ব্যবস্থা। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে দ্রুত এই নিরাপত্তা ব্যবস্থা কার্যকর করার জন্য জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগকে অনুরোধ জানিয়েছে বিপিসি।


