বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, যুদ্ধ থামার কোনো লক্ষণই দেখা যাচ্ছে না। বরং ইরান বনাম যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল মেরুকরণে উত্তেজনা প্রতিদিন বাড়ছে। এই অস্থিরতার সবচেয়ে বড় শিকার হয়েছে জ্বালানি তেলের বাজার। গত চার বছরের রেকর্ড ভেঙে প্রতি ব্যারেল তেলের দাম ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ার পর তা আরও ওপরের দিকে ছুটছে।
শেয়ারবাজারে বড় ধস
তেলের দামের এই অস্বাভাবিক বৃদ্ধি বিনিয়োগকারীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক তৈরি করেছে। সপ্তাহের শুরুতেই এশিয়ার বাজারগুলোতে ব্যাপক দরপতন লক্ষ্য করা গেছে:
জাপান: নিক্কেই ২২৫ সূচক ৬ শতাংশেরও বেশি কমে ৫২,১৬৬.৯২ পয়েন্টে নেমে এসেছে।
দক্ষিণ কোরিয়া: কসপি সূচক বড় ধরণের পতনের মুখে পড়ে প্রায় ৬.৩ থেকে ৭.৩ শতাংশ পর্যন্ত হ্রাস পেয়েছে।
হংকং ও অস্ট্রেলিয়া: হ্যাং সেং ২.৬ শতাংশ এবং অস্ট্রেলিয়ার এএসএক্স ২০০ সূচক গত এক বছরের মধ্যে সবচেয়ে খারাপ দিন পার করছে।
তেলের দামে উল্লম্ফন
আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামের পরিবর্তন ছিল চোখে পড়ার মতো:
ব্রেন্ট ক্রুড: ২৩.১ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল ১১৪.১৩ ডলারে পৌঁছেছে।
ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (WTI): ২৩.৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ব্যারেল প্রতি ১১২.২৬ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
মার্কিন প্রশাসনের অবস্থান: প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প এবং তার জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইট দাবি করেছেন যে, এই মূল্যবৃদ্ধি কেবল সাময়িক। তাদের মতে, এটি কয়েক সপ্তাহের বেশি স্থায়ী হবে না। তবে বাজার বিশ্লেষক ও বিনিয়োগকারীরা এই আশ্বাসে ভরসা রাখতে পারছেন না, যার প্রমাণ মিলছে ওয়াল স্ট্রিটের প্রি-মার্কেট লেনদেনের নেতিবাচক তথ্যে।
ভবিষ্যতের পূর্বাভাস
জেপিমরগ্যানের প্রধান অর্থনীতিবিদ ব্রুস কাসম্যান সতর্ক করেছেন যে, হরমুজ প্রণালির ওপর বিশ্ব অর্থনীতির নির্ভরতা এখনও অনেক বেশি। তার মতে, পরিস্থিতির অবনতি ঘটলে তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১২০ ডলার পর্যন্ত উঠে যেতে পারে। তবে সংঘাত দ্রুত প্রশমিত হলে দাম আবার স্বাভাবিক স্তরে ফিরে আসার সম্ভাবনাও রয়েছে।
সামগ্রিকভাবে, মধ্যপ্রাচ্যের এই সমরশাহি কেবল যুদ্ধের ময়দানেই সীমাবদ্ধ নেই, এটি এখন বিশ্ব অর্থনীতির স্থিতিশীলতার জন্য এক বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
আরও পড়ুন: মির্জা আব্বাসকে মানহানির অভিযোগে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে আদালতের সমন


