Azgar Ali

লোড হচ্ছে...
শিরোনাম
গণভোটে ‘না’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জিএম কাদেরের ২১ এপ্রিল থেকে শুরু হচ্ছে ২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা ওসমান হাদি ভাই অমর হয়ে রইলেন কক্সবাজার ভ্রমণ ২০২৫ | যেমন কেটেছিল আমার তিন দিন ডিগ্রি পরীক্ষা আমার জীবনের জন্য খুবই স্মরণীয় একটা দিন মানুষকে কষ্ট দিলে কী হয়? কুরআন-হাদিসের আলোকে বাস্তব সত্য রাজনীতি হয়ে উঠছে মানুষের আয়ের উপায় আমার ভালোবাসার মানুষের গল্প প্রাইমারী স্কুলের সেই স্মৃতি আজও ভুলতে পারিনি ঢাকাসহ ১৫ জেলায় ঝড়-বৃষ্টির আভাস: নদীবন্দরে সতর্কতা জারি কলাপাড়ায় নববধূর ওপর পৈশাচিক হামলা: ডাকাতি ও সংঘবদ্ধ ধর্ষণের মর্মান্তিক ঘটনা চরমোনাই পীরের দরবারে এনসিপি নেতাদের মত বিনিময় প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক পদে দ্রুত নিয়োগ: শিক্ষার মানোন্নয়নে নতুন নির্দেশনা অপু বিশ্বাসের জামিন মঞ্জুর: হত্যাচেষ্টা মামলার সর্বশেষ তথ্য আলিয়া মাদ্রাসায় ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগ চালু: সময়ের দাবি নাকি শিক্ষা ব্যবস্থার প্রয়োজনীয় সংস্কার?

শিশুদের হাতে মোবাইল: নীরব বিষের মত ভয়ংকর!

বর্তমান যুগ প্রযুক্তির যুগ। আমরা চাইলেই মুহূর্তে যোগাযোগ করতে পারি, জানতে পারি বিশ্বের যে কোনও প্রান্তের খবর। কিন্তু এই প্রযুক্তির একটি অংশ—মোবাইল ফোন—যখন শিশুদের হাতে চলে যায়, তখন সেটি আশীর্বাদ না হয়ে হয়ে উঠতে পারে অভিশাপ।

মোবাইল শিশুর জন্য কেন ভয়ংকর?

১. মানসিক বিকাশে বাঁধা

শিশুরা যখন মোবাইলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাটায়, তখন তারা বাস্তব জীবনের সামাজিক মেলামেশা থেকে দূরে সরে যায়। এতে তাদের সামাজিক দক্ষতা, আত্মবিশ্বাস ও আচরণগত বিকাশে মারাত্মক প্রভাব পড়ে।

২. ঘুমের ব্যাঘাত

মোবাইলের স্ক্রিন থেকে নির্গত নীল আলো (blue light) শিশুর ঘুমের স্বাভাবিক ছন্দ নষ্ট করে। ফলে ঘুম কমে যায়, যা শিশুর শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।

৩. আসক্তি ও ধৈর্য হারানো

গেম, ইউটিউব ভিডিও, সোশ্যাল মিডিয়ার প্রতি আসক্তি শিশুকে করে তোলে অস্থির ও অধৈর্য। তারা একটানা মনোযোগ ধরে রাখতে পারে না, যার প্রভাব পড়ে পড়াশোনার উপরেও।

৪. সহিংস কনটেন্টের সহজ প্রবেশ

অনেক সময় বাচ্চারা এমন ভিডিও বা গেমে প্রবেশ করে ফেলে যেখানে সহিংসতা, অশ্লীলতা বা ভয়ঙ্কর বিষয় দেখানো হয়। এতে তাদের মনোজগত প্রভাবিত হয়, আচরণে আসে পরিবর্তন।

৫. শারীরিক সমস্যার ঝুঁকি

অতিরিক্ত মোবাইল ব্যবহারে চোখের দৃষ্টিশক্তি দুর্বল হওয়া, মাথাব্যথা, ঘাড় ও আঙ্গুলের ব্যথার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। পাশাপাশি শারীরিক কার্যকলাপ কমে যাওয়ায় মোটা হওয়ার সম্ভাবনাও বাড়ে।


✅ অভিভাবকদের করণীয়

  • নিয়মিত সময় নির্ধারণ করুন: বাচ্চাকে মোবাইল দেওয়ার নির্দিষ্ট সময় রাখুন (যেমন, দিনে ৩০ মিনিট)।

  • 📚 বিকল্প দিন: গল্পের বই, খেলনা, ছবি আঁকা, প্রকৃতিতে ঘুরে বেড়ানো—এসবের মাধ্যমে তাদের ব্যস্ত রাখুন।

  • 👀 পর্যবেক্ষণ করুন: শিশুর মোবাইল ব্যবহারের সময় আপনি পাশে থাকুন এবং সে কী করছে তা দেখুন।

  • 📵 নাইট মোড ব্যবহার করুন: যদি রাতে মোবাইল ব্যবহার করতেই হয়, তবে \’নাইট মোড\’ চালু রাখুন।

  • 👫 বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণ গড়ে তুলুন: শিশুর সঙ্গে খোলামেলা কথা বলুন, যাতে তারা আপনাকে বিশ্বাস করে এবং মোবাইল ব্যবহারে সীমাবদ্ধতা মানতে রাজি হয়।


উপসংহার

প্রযুক্তি আমাদের জীবনে অপরিহার্য হলেও, শিশুর হাতে মোবাইল তুলে দেওয়ার আগে আমাদের ভাবা উচিত, সেটি তার জন্য কতটা নিরাপদ। দায়িত্বশীল অভিভাবক হিসেবে আমাদের উচিত সন্তানদের শৈশব রক্ষা করা—মোবাইলের স্ক্রিন নয়, বরং বাস্তব জীবনের আলোয় তাদের বেড়ে ওঠার সুযোগ করে দেওয়া।


আপনার মতামত আমাদের জানাতে কমেন্ট করুন। এই পোস্টটি শেয়ার করুন যেন আরও অভিভাবক সচেতন হতে পারেন।

আরও পড়ুন: মোবাইল আসক্তি থেকে বাচ্চাদের দূরে রাখার উপায়

Leave a Reply

Scroll to Top