Azgar Ali

এনজিওর আড়ালে নারী পাচার ও পর্নোগ্রাফি চক্র: হবিগঞ্জে মূল হোতা নুরুল হক গ্রেপ্তার

এনজিওর আড়ালে ধর্ষণ ও পর্নোগ্রাফি

হবিগঞ্জের বাহুবলে তথাকথিত মানবাধিকার সংস্থা ও এনজিওর আড়ালে অসহায় নারীদের ধর্ষণ, ব্ল্যাকমেইল এবং পর্নোগ্রাফি চক্রের মূল হোতা নুরুল ইসলাম ওরফে নুরুল হককে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব। রোববার (৮ মার্চ) সন্ধ্যায় চুনারুঘাট এলাকায় এক ঝটিকা অভিযান চালিয়ে তাকে আইনের আওতায় আনা হয়। গ্রেপ্তারকৃত নুরুল হক বাহুবল উপজেলার মিরপুর ইউনিয়নের লাকুড়ীপাড়া গ্রামের আলী হোসেনের সন্তান।

ঘটনার নেপথ্যে: যেভাবে চলত এই অপরাধ সাম্রাজ্য

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, নুরুল হক ‘দরিদ্র কল্যাণ সংস্থা’ নামক একটি এনজিও এবং একটি মানবাধিকার সংগঠনের আড়ালে দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক কার্যক্রম চালিয়ে আসছিল। চুনারুঘাট এলাকার এক তরুণী বছরখানেক আগে নুরুল হকের সংস্থায় অফিস সহকারী হিসেবে যোগদান করলে তার ওপর লোলুপ দৃষ্টি পড়ে এই কথিত নেতার।

গত বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি কার্যালয়ের ভেতরেই ওই তরুণীকে প্রথমবার জোরপূর্বক ধর্ষণ করা হয়। শুধু তাই নয়, ধর্ষণের সময় কৌশলে মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করে রাখা হয়। পরবর্তীতে সেই আপত্তিকর ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে তাকে দিনের পর দিন জিম্মি করে একাধিকবার পাশবিক নির্যাতন চালানো হয়।

অচেতন নাশক ওষুধ ও পর্নোগ্রাফি চক্র

ভুক্তভোগী তরুণীর অভিযোগ আরও ভয়ঙ্কর। তিনি জানান, তাকে প্রায়ই অচেতন নাশক ওষুধ খাইয়ে নুরুল হকের বন্ধু ও প্রবাসীদের হাতে তুলে দেওয়া হতো। সম্প্রতি তিনি ওই এনজিওর চাকরি ছেড়ে দিলে ক্ষিপ্ত হয়ে নুরুল হক সেই আপত্তিকর ভিডিওগুলো বিদেশে থাকা তার সহযোগীদের কাছে পাঠিয়ে দেয়। পরবর্তীতে সেই ভিডিওগুলো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়।

একাধিক নারী কর্মীর একই দশা

পুলিশি তদন্তে বেরিয়ে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। শুধু এই তরুণীই নন, ওই প্রতিষ্ঠানের আরও একাধিক নারী কর্মী একই ধরনের লালসার শিকার হয়েছেন। চুনারুঘাট ও বাহুবলের আরও দুই তরুণী একইভাবে ধর্ষণ ও শ্লীলতাহানির শিকার হয়েছেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। এর আগে ১৫ ফেব্রুয়ারি রাশিদা নামে এক শিক্ষার্থী হবিগঞ্জ জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) বরাবর এই চক্রের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছিলেন।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বক্তব্য

র‍্যাব-৯ শায়েস্তাগঞ্জ ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার লেফটেন্যান্ট মো. সাজ্জাদ হোসেন জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তারা জানতে পারেন অভিযুক্ত নুরুল হক চুনারুঘাটে আত্মগোপন করে আছে। সেখানে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে তার অপকর্মের কথা স্বীকার করেছে।

বাহুবল মডেল থানার ওসি মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, “পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন এবং নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলাটি দায়ের করা হয়েছে। আমরা বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তদন্ত করছি। পলাতক থাকা অবস্থায় র‍্যাবের সহায়তায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং দ্রুত তাকে আদালতে সোপর্দ করা হবে।”

এই ঘটনার পর এলাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। স্থানীয়রা এই ভণ্ড মানবাধিকার নেতার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

আরও পড়ুন: ভারতে ধরা পড়লেন হাদি হত্যার প্রধান আসামি মাসুদ

Leave a Reply

Scroll to Top