মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে এক নাটকীয় মোড় দেখা দিয়েছে। ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে মুজতবা খামেনির দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই বিশ্বনেতাদের মধ্যে মেরুকরণ স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। একদিকে যখন ওয়াশিংটন থেকে কড়া হুঁশিয়ারি আসছে, তখন অন্যদিকে তেহরানের প্রতি ‘অটল সমর্থনে’র বার্তা পাঠিয়েছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।
তেহরানের প্রতি মস্কোর অটল সমর্থন
সোমবার এক বিশেষ বার্তায় প্রেসিডেন্ট পুতিন ইরানের নতুন নেতৃত্বকে অভিনন্দন জানানোর পাশাপাশি মস্কোর পক্ষ থেকে পূর্ণ সংহতি প্রকাশ করেছেন। তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, আঞ্চলিক অস্থিরতা এবং বৈশ্বিক চাপের মুখে ইরান একা নয়। পুতিন তার বার্তায় বলেন:
“আমি তেহরানকে আমাদের অটল সমর্থন এবং ইরানি বন্ধুদের সঙ্গে সংহতির বিষয়টি আবারও নিশ্চিত করতে চাই। রাশিয়া ইরানের একটি নির্ভরযোগ্য অংশীদার ছিল এবং ভবিষ্যতেও থাকবে।”
উল্লেখ্য যে, মার্কিন ও ইসরায়েলি বিমান হামলায় সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যুর পর তার ছেলে মুজতবা খামেনি এই গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন হন। ইরানের এই ক্রান্তিকালে পুতিনের এমন সমর্থন তেহরান-মস্কো সামরিক ও কৌশলগত সম্পর্ককে আরও মজবুত করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
পুতিন বনাম ট্রাম্প: দ্বিমুখী অবস্থান
মুজতবা খামেনিকে কেন্দ্র করে মস্কো এবং ওয়াশিংটনের অবস্থান এখন উত্তর ও দক্ষিণ মেরুর মতো। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট যেখানে ইরানের নতুন নেতৃত্বকে সাহসী এবং নিষ্ঠাবান হিসেবে আখ্যা দিচ্ছেন, সেখানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই নেতৃত্বকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন।
সংবাদমাধ্যম এক্সিওস-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্প স্পষ্ট জানিয়েছেন যে মুজতবা খামেনি তার কাছে ইরানের নেতা হিসেবে কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নন। এমনকি এবিসি নিউজ-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “তিনি (নতুন নেতা) আমাদের কাছে অনুমোদনযোগ্য না হলে তিনি বেশিদিন টিকবেন না।”
মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা ও রাশিয়ার ভূমিকা
বর্তমানে ইরান ও মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে যে সশস্ত্র সংঘাত ও অস্থিরতা চলছে, সেদিকে ইঙ্গিত করে পুতিন মুজতবার নিয়োগকে একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন। তিনি মনে করেন, এই মুহূর্তে এমন একটি উচ্চ পদে আসীন হওয়া অত্যন্ত সাহসের কাজ। এই সমর্থনের মাধ্যমে পুতিন মূলত মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন আধিপত্যকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিলেন।
বিশ্লেষকদের মতে, রাশিয়ার এই প্রকাশ্য অবস্থান ইরানের মনোবল বৃদ্ধি করবে এবং আঞ্চলিক শক্তি বৃদ্ধিতে সহায়তাকর ভূমিকা পালন করবে।
আরও পড়ুন: জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতে ডিপোতে সেনা মোতায়েন ও ফিলিং স্টেশনে পুলিশি টহলের প্রস্তাব


