বরিশালে শিশু ধর্ষণ চেষ্টার মর্মান্তিক ঘটনা: আসামি এখনও পলাতক

মেহেন্দিগঞ্জের নির্জন গ্রামে এক শিশুর নিরাপদ শৈশব ধ্বংসের চেষ্টা

বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার একটি প্রত্যন্ত গ্রামে ঘটে যাওয়া এক নৃশংস ঘটনা এলাকাবাসীকে স্তম্ভিত করেছে। মাত্র ছয় বছর বয়সী এক কোমলমতি শিশুকে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগে স্থানীয় এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। ঘটনাটি শুনে যে কারও রক্ত ঠান্ডা হয়ে যাবে—এমনই এক নির্মম বাস্তবতার মুখোমুখি হয়েছেন শিশুটির পরিবার।

ঘটনার বিবরণ: নির্জন বাড়িতে নারকীয় চেষ্টা

গত ৮ মে, দুপুরবেলা কাজিরহাট থানার অন্তর্গত বিদ্যানন্দনপুর গ্রামের একটি নির্জন বাড়িতে এই ভয়াবহ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত মজিবর বেপারী (৫০) নামের এক ব্যক্তি শিশুটিকে একা পেয়ে ধর্ষণের চেষ্টা চালায়। শিশুটির চিৎকার শুনে তার নানী ঘটনাস্থলে ছুটে এলে মজিবর পালানোর চেষ্টা করে। নানী তাকে জোর করে ধরে ফেললেও, এক পর্যায়ে ধাক্কা দিয়ে তাকে ফেলে দিয়ে মজিবর অন্ধকারে মিশে যায়।

মামলা দায়ের ও পুলিশের তৎপরতা

পরদিন, ৯ মে শিশুটির পরিবার স্থানীয়দের সহায়তায় কাজিরহাট থানায় গিয়ে মামলা দায়ের করে। থানার ওসি মো. মিজানুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, শিশুটির বাবা ও নানীর জবানবন্দী রেকর্ড করা হয়েছে এবং শিশুটিকে ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ এখন অভিযুক্ত মজিবর বেপারীকে গ্রেফতারের জন্য তল্লাশি চালাচ্ছে।

অপরাধীকে বাঁচাতে স্বজনের হুমকি ও প্রলোভন

মামলার এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ঘটনার পর মজিবরের পরিবার শিশুটির নানীকে টাকার লোভ দেখিয়ে বিষয়টি চাপা দিতে চেয়েছে। কিন্তু নানী তাদের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় তারা তাকে ভয়ভীতি দেখাতে শুরু করে। তবে, স্থানীয় জনগণ ও শিশুটির পরিবারের দৃঢ় অবস্থানের কারণে শেষ পর্যন্ত আইনের আশ্রয় নেওয়া হয়।

শিশু নির্যাতন: একটি জাতীয় সংকট

এ ধরনের ঘটনা শুধু একটি পরিবার বা গ্রামের সমস্যা নয়, এটি আমাদের সমাজের নৈতিক অবক্ষয়ের চিত্র ফুটিয়ে তোলে। শিশুদের প্রতি যৌন নির্যাতন ও সহিংসতা দিন দিন বেড়েই চলেছে, যা রোধ করতে কঠোর আইন প্রয়োগ ও সামাজিক সচেতনতা জরুরি।

কী করা উচিত?

  1. সচেতনতা বৃদ্ধি: পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিশুদের সুরক্ষা নিয়ে আলোচনা করতে হবে।

  2. দ্রুত বিচার: শিশু নির্যাতনের মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তি করতে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন প্রয়োজন।

  3. কঠোর শাস্তি: অপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে, যাতে অন্য কেউ এমন পাশবিক কাজ করতে সাহস না পায়।

শেষ কথা

এই মর্মান্তিক ঘটনা আমাদের সবার জন্য একটি বড় প্রশ্ন রেখে যায়—আমরা কি আমাদের শিশুদের নিরাপদ পরিবেশ দিতে পারছি? শুধু আইন প্রয়োগই নয়, সমাজের প্রতিটি স্তরে নৈতিক শিক্ষা ও সচেতনতা ছড়িয়ে দিতে হবে। আশা করি, দোষী ব্যক্তি শিগগিরই গ্রেফতার হবে এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে।

আরও পড়ুন: সিরাজগঞ্জে স্কুলছাত্রী ধর্ষণ: নৃশংসতার বিচার চাই

#শিশু_সুরক্ষা #ধর্ষণ_বিরোধী_আন্দোলন #বরিশাল_ঘটনা

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top