অভিনেতা জাহের আলভীর স্ত্রী আফরা ইভনাথ খান ইকরার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে রহস্য ক্রমেই ঘনীভূত হচ্ছে। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক দীর্ঘ ও বিস্ফোরক পোস্টের মাধ্যমে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন আলভী। শুক্রবার (৬ মার্চ) দিবাগত রাতে দেওয়া এই পোস্টটিকে তিনি তার ‘শেষ বার্তা’ হিসেবে উল্লেখ করে বেশ কিছু গুরুতর দাবি উত্থাপন করেছেন।
সিসিটিভি ফুটেজ ও মাদক সেবনের অভিযোগ
আলভী তার পোস্টে দাবি করেন, তাদের বাসার ড্রয়িং ও ডাইনিং রুমের সিসিটিভি ক্যামেরার সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ছিল কেবল ইকরার ফোনে। তিনি অভিযোগ তুলেছেন যে, গত ২৫ থেকে ২৭ মার্চের মধ্যে ইকরার বন্ধুরা বাসায় এসে গভীর রাত পর্যন্ত আড্ডা দিয়েছেন এবং সেখানে মদ্যপানসহ বিভিন্ন মাদক সেবন করা হয়েছে। এমনকি মৃত্যুর আগের দিন ইকরা তার সহকারীর মাধ্যমে ঘুমের ওষুধ আনিয়েছিলেন, যার প্রমাণ সিসিটিভি ফুটেজে রয়েছে বলে তিনি জানান। এই ফুটেজগুলো যেন কোনোভাবেই নষ্ট না করা হয়, সে বিষয়েও তিনি সংশ্লিষ্টদের অনুরোধ করেছেন।
অতীতের বিয়ে ও পরকীয়া নিয়ে পাল্টা প্রশ্ন
নিজের বিরুদ্ধে ওঠা পরকীয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে আলভী উল্টো ইকরার অতীত নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তার দাবি অনুযায়ী:
২০১০ সালে তারা পালিয়ে বিয়ে করলেও ইকরার পরিবার বিষয়টি গোপন রেখে তাকে অন্যত্র বিয়ে দেয়।
আলভী অভিযোগ করেন, প্রথম স্বামী বর্তমান থাকা অবস্থাতেই ইকরা সেই বিয়েতে সম্মতি দিয়েছিলেন।
পরবর্তীতে ইকরা নিজের ভুল বুঝতে পেরে ফিরে এলে আলভী তাকে ক্ষমা করে গ্রহণ করেছিলেন।
এছাড়া জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪১তম ব্যাচের ‘নাবিদ’ নামের এক সহপাঠীর সাথে ইকরার সম্পর্ক নিয়েও তিনি সন্দেহ প্রকাশ করেছেন।
তদন্তের আকুতি ও শেষ ইচ্ছা
পোস্টের শেষ দিকে আলভী অত্যন্ত আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন। তিনি জানান, প্রভাবশালী মহলের চাপ এবং সহকর্মীদের অসহযোগিতার কারণে তিনি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। তবে নিজের একমাত্র সন্তানের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে তিনি সাংবাদিক ও সাধারণ মানুষের কাছে এই ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। ফোনের ফরেনসিক রিপোর্ট এবং ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনের স্বচ্ছতা নিয়েও তিনি শঙ্কা প্রকাশ করেছেন। পরিশেষে, নিজের কোনো ভুল থাকলে সবার কাছে ক্ষমা চেয়েছেন এই অভিনেতা।
আরও পড়ুন: ‘চিকনি চামেলি’র মতো গানে আর কণ্ঠ নয়: অতীতের গানে লজ্জিত শ্রেয়া ঘোষাল

