বাংলাদেশের অর্থনীতিতে প্রাণসঞ্চার করছে প্রবাসীদের পাঠানো আয় বা রেমিট্যান্স। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের মার্চ মাসে রেমিট্যান্স প্রবাহে ব্যাপক গতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, মার্চের প্রথম ১৪ দিনেই দেশে ২২০ কোটি ৫০ লাখ (২.২০ বিলিয়ন) মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা।
প্রতিদিন গড়ে কত আসছে?
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, মার্চের প্রথম দুই সপ্তাহে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১৫ কোটি ৭৫ লাখ ডলার করে রেমিট্যান্স দেশে এসেছে। গত বছর অর্থাৎ ২০২৪ সালের মার্চ মাসের একই সময়ের তুলনায় এই প্রবৃদ্ধি বেশ আশাব্যঞ্জক। গত বছরের প্রথম ১৪ দিনে রেমিট্যান্স এসেছিল মাত্র ১৬২ কোটি ৫০ লাখ ডলার। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে রেমিট্যান্স প্রবাহে বড় ধরনের লাফ দেখা দিয়েছে।
চলতি অর্থবছরের চিত্র
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানান, চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে ১৪ মার্চ পর্যন্ত দেশে মোট ২ হাজার ৪৬৫ কোটি ৮০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এটি ২২.৬০ শতাংশ বেশি।
রেমিট্যান্সের এই ঊর্ধ্বমুখী ধারা গত কয়েক মাস ধরেই অব্যাহত রয়েছে:
ফেব্রুয়ারি ২০২৬: রেমিট্যান্স এসেছে ৩০২ কোটি ৭ লাখ ৬০ হাজার ডলার।
জানুয়ারি ২০২৬: এ মাসে এসেছে ৩১৭ কোটি ৯ লাখ ৪০ হাজার ডলার, যা দেশের ইতিহাসে এক মাসে তৃতীয় সর্বোচ্চ আয়।
ইতিহাসের সর্বোচ্চ রেমিট্যান্সের রেকর্ড
উল্লেখ্য যে, গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরটি ছিল বাংলাদেশের রেমিট্যান্সের ইতিহাসে একটি মাইলফলক। ওই অর্থবছরে প্রবাসীরা মোট ৩০.৩২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার পাঠিয়েছিলেন, যা দেশের ইতিহাসে কোনো নির্দিষ্ট অর্থবছরে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স প্রাপ্তির রেকর্ড। বর্তমান গতিধারা অব্যাহত থাকলে চলতি অর্থবছর শেষে সেই রেকর্ড ভেঙে নতুন উচ্চতায় পৌঁছানোর সম্ভাবনা দেখছেন অর্থনীতিবিদরা।
কেন বাড়ছে রেমিট্যান্স?
বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্যাংকিং চ্যানেলে ডলারের দামের সমন্বয় এবং বৈধ পথে টাকা পাঠানোর ব্যাপারে প্রবাসীদের সচেতনতা বৃদ্ধি পাওয়ায় রেমিট্যান্সের প্রবাহ বেড়েছে। এছাড়া সরকারের দেওয়া প্রণোদনা এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কড়াকড়ি ব্যবস্থার ফলে হুন্ডির পরিবর্তে বৈধ পথে অর্থ পাঠানোর প্রবণতা জোরদার হয়েছে।
আরও পড়ুন: আদালত থেকে বেকসুর খালাস পেলেন কণ্ঠশিল্পী আসিফ আকবর: সত্যের জয় হলো
