আদালত থেকে বেকসুর খালাস পেলেন কণ্ঠশিল্পী আসিফ আকবর: সত্যের জয় হলো

আসিফ আকবর মামলা থেকে খালাস

দেশের জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী আসিফ আকবর মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের একটি মামলা থেকে বেকসুর খালাস পেয়েছেন। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে ঢাকার অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালত-২ এর বিচারক আয়েশা আক্তার মৌসুমি এই রায় ঘোষণা করেন। রাষ্ট্রপক্ষ অভিযোগ প্রমাণ করতে ব্যর্থ হওয়ায় আদালত তাকে এই মামলা থেকে অব্যাহতি দেন।

মামলার প্রেক্ষাপট ও ঘটনাপ্রবাহ

ঘটনাটি শুরু হয়েছিল ২০১৮ সালের ৬ই জুন। সেই সময় রাজধানীর ‘আর্ব এন্টারটেইনমেন্ট’ কার্যালয়ে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের একটি মামলায় আসিফ আকবরকে গ্রেপ্তার করা হয়। তল্লাশিকালে তার অফিস থেকে চার বোতল বিদেশি টাকিলা মদ উদ্ধারের দাবি করে সিআইডি।

পরবর্তীতে ২০১৯ সালের ২৩শে জুলাই রাজধানীর তেজগাঁও থানায় তার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়। মামলাটি ২০১৮ সালের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের ৩৬ (১) টেবিলের ২৪ (ক) ধারায় নথিভুক্ত ছিল। দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে এই মামলার কার্যক্রম চলার পর গতকাল চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করা হলো।

আদালতের পর্যবেক্ষণ ও সাক্ষ্যগ্রহণ

মামলার বিচারিক প্রক্রিয়ায় আদালত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, রাষ্ট্রপক্ষ আসিফ আকবরের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগগুলো যথাযথভাবে প্রমাণ করতে পারেনি। মামলায় মোট তিনজন সাক্ষী আদালতে তাদের সাক্ষ্য প্রদান করেন: ১. মামলার বাদী ও সিআইডি’র সাইবার তদন্ত শাখার উপ-পরিদর্শক প্রশান্ত কুমার সিকদার। ২. তদন্তকারী কর্মকর্তা সিআইডি’র উপ-পরিদর্শক জামাল উদ্দিন। ৩. উপ-পরিদর্শক শাহিনুল ইসলাম।

সকল সাক্ষীর বয়ান ও যুক্তিতর্ক শেষে আদালত এই সিদ্ধান্তে উপনীত হন যে, আসিফ আকবরের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের কোনো শক্ত ভিত্তি নেই।

আসিফ আকবরের প্রতিক্রিয়া: “সত্যের জয়”

মামলা থেকে মুক্তি পাওয়ার পর উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন এই সংগীত তারকা। এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, তিনি বরাবরই দেশের প্রচলিত আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল ছিলেন। আসিফ আকবর বলেন:

“এই রায়ের মধ্য দিয়ে প্রমাণিত হলো যে আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো ছিল গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ। শেষ পর্যন্ত সত্যেরই জয় হয়েছে। আমি জানতাম আমি নির্দোষ, আর আজ আদালত সেই স্বীকৃতিই দিলেন।”

আসিফ আকবরের ভক্তরা এই রায়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আনন্দ প্রকাশ করছেন। দীর্ঘ সময় ধরে চলা এই আইনি লড়াইয়ের অবসানে তার ক্যারিয়ারে আবার নতুন গতি আসবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

আরও পড়ুন: ‘চিকনি চামেলি’র মতো গানে আর কণ্ঠ নয়: অতীতের গানে লজ্জিত শ্রেয়া ঘোষাল

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top