দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গে গত মঙ্গলবার বিকেল ৫টার দিকে এক ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলায় নিহত হয়েছেন আবু নাসের শামীম। তিনি দক্ষিণ আফ্রিকা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। বারাকওয়ানে এলাকায় তার নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সামনে এই হত্যাকাণ্ড ঘটে।
ঘটনার বিবরণ
দক্ষিণ আফ্রিকা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুল আউয়াল তানসেনের দেওয়া তথ্যমতে, শামীম মঙ্গলবার বিকেলে জোহানেসবার্গের ফোর্ডসবার্গ থেকে বাজার করে নিজের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ফিরছিলেন। তিনি দোকানে পৌঁছানোমাত্রই আগে থেকে ওত পেতে থাকা একদল কৃষ্ণাঙ্গ সন্ত্রাসী তার ওপর হামলা চালায়। সন্ত্রাসীরা তার মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে ৫ রাউন্ড গুলি করে। এতে ঘটনাস্থলেই শামীম শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
নিহতের পরিচয় ও পারিবারিক অবস্থা
নিহত আবু নাসের শামীম নোয়াখালী জেলার কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার চরকাঁকড়া ইউনিয়নের গনু সারেং বাড়ির মৃত আবদুর রশিদ মিয়ার সন্তান। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি চার পুত্রসন্তানের জনক। ২০০৭ সালে তিনি জীবিকার তাগিদে প্রথম দক্ষিণ আফ্রিকায় পাড়ি জমান। দীর্ঘ প্রবাস জীবনে কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে তিনি সেখানে ৪-৫টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছিলেন।
হত্যাকাণ্ডের কারণ নিয়ে অস্পষ্টতা
শামীমের বড় ছেলে আবু রাফসান পিয়াস জানান, চার বছর আগে দেশে ঘুরে এসে পুনরায় দক্ষিণ আফ্রিকায় ব্যবসা শুরু করেছিলেন তার বাবা। তবে সম্প্রতি একটি বড় দোকান বিক্রি নিয়ে তার বাবার সঙ্গে এক ব্যবসায়িক অংশীদারের বিরোধ তৈরি হয়েছিল। এই বিরোধের জের ধরে নাকি অন্য কোনো কারণে তাকে টার্গেট করা হয়েছে, তা নিয়ে পরিবার এখনও নিশ্চিত নয়।
সরকারের কাছে আকুল আবেদন
প্রবাসী এই রেমিট্যান্স যোদ্ধার অকাল মৃত্যুতে দিশেহারা তার পরিবার। নিহত শামীমের বড় ছেলে আবু রাফসান পিয়াস তার বাবার মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য বাংলাদেশ সরকারের সহযোগিতা ও যথাযথ কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
আরও পড়ুন: রেকর্ড ভাঙছে রেমিট্যান্স: মার্চের প্রথম দুই সপ্তাহেই এলো ২২০ কোটি ডলার