বর্তমান সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বলতেই আমাদের চোখে সবার আগে ভেসে ওঠে ফেসবুক। ব্যক্তিগত যোগাযোগ থেকে শুরু করে ব্যবসার প্রচার—সবখানেই ফেসবুকের জয়জয়কার। কিন্তু এই জনপ্রিয়তার অন্ধকার দিকটিও বেশ ভয়াবহ। প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ সাইবার অপরাধীদের কবলে পড়ে তাদের প্রিয় ফেসবুক অ্যাকাউন্টটি হারাচ্ছেন। হ্যাকাররা আইডি দখল করে যেমন অর্থ দাবি করছে, তেমনি আপত্তিকর পোস্ট দিয়ে ব্যবহারকারীকে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করছে।
থানা-পুলিশ কিংবা সাইবার ক্রাইম ইউনিটে অভিযোগের পাহাড় জমলেও নিজের সতর্কতা ছাড়া অ্যাকাউন্ট রক্ষা করা কঠিন। তবে হতাশ হওয়ার কিছু নেই। কিছু কৌশল এবং নিরাপত্তা সেটিংস মেনে চললে আপনি আপনার ফেসবুক আইডিকে করতে পারেন শতভাগ সুরক্ষিত।
১. লিংকে ক্লিক করার আগে সাবধান (Phishing Protection)
মেসেঞ্জারে হুটহাট আসা আকর্ষণীয় অফার বা “দেখুন আপনার এই ভিডিওটি ফাঁস হয়েছে” জাতীয় লিংকে ক্লিক করা থেকে বিরত থাকুন। এগুলো সাধারণত ফিশিং লিংক হয়। লিংকে ক্লিক করলে ফেসবুকের মতো হুবহু একটি লগইন পেজ আসবে। সেখানে আপনার ইউজারনেম ও পাসওয়ার্ড দিলেই তা চলে যাবে হ্যাকারের হাতে। মনে রাখবেন, ফেসবুক কখনোই আপনাকে মেসেঞ্জারে লিংক পাঠিয়ে লগইন করতে বলবে না।
২. ইউআরএল (URL) বা ওয়েবসাইটের ঠিকানা যাচাই
ব্রাউজার দিয়ে ফেসবুকে ঢোকার সময় অবশ্যই অ্যাড্রেস বার খেয়াল করবেন। অফিশিয়াল ঠিকানা হলো https://www.facebook.com। হ্যাকাররা অনেক সময় বিভ্রান্তি তৈরি করতে facebok.com, facbook.org বা ffacebook.com এর মতো ডোমেইন ব্যবহার করে। স্পেলিং একটু ভুল হলেই আপনার তথ্য চুরি হয়ে যেতে পারে। তাই সবসময় নিজে টাইপ করে ফেসবুকে প্রবেশ করার অভ্যাস করুন।
৩. শক্তিশালী ও ইউনিক পাসওয়ার্ড ব্যবহার
সহজ পাসওয়ার্ড (যেমন: নিজের নাম, ফোন নম্বর বা জন্মতারিখ) ব্যবহার করা মানে হ্যাকারকে দাওয়াত দেওয়া। একটি শক্তিশালী পাসওয়ার্ডে নিচের বিষয়গুলো থাকা জরুরি:
-
বড় হাতের অক্ষর (A, B) ও ছোট হাতের অক্ষর (a, b)।
-
সংখ্যা (1, 2, 3)।
-
বিশেষ চিহ্ন (@, #, $, %)। একই পাসওয়ার্ড একাধিক সোশ্যাল মিডিয়া বা ইমেইলে ব্যবহার করবেন না। প্রতি ৩-৬ মাস অন্তর পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করা একটি ভালো অভ্যাস।
৪. টু-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন (2FA) চালু করা
ফেসবুক সুরক্ষার সবচেয়ে শক্তিশালী অস্ত্র হলো Two-Factor Authentication। এটি চালু থাকলে কেউ আপনার পাসওয়ার্ড জেনে গেলেও আপনার ফোনে আসা ওটিপি (OTP) বা সিকিউরিটি কোড ছাড়া লগইন করতে পারবে না।
-
কিভাবে করবেন: Settings > Security and Login > Use two-factor authentication। এখানে আপনার সচল মোবাইল নম্বরটি যুক্ত করে দিন।
৫. থার্ড পার্টি অ্যাপ ও সন্দেহজনক ডিভাইস চেক
অনেক সময় আমরা বিভিন্ন গেম বা কুইজ খেলার জন্য ফেসবুক দিয়ে লগইন করি। এই থার্ড পার্টি অ্যাপগুলো আপনার তথ্যের জন্য হুমকিস্বরূপ হতে পারে।
-
নিয়মিত ‘Apps and Websites’ সেকশন থেকে অপ্রয়োজনীয় অ্যাপ রিমুভ করুন।
-
‘Where You’re Logged In’ অপশনে গিয়ে দেখুন আপনার অজান্তে অন্য কোনো ডিভাইসে আইডি লগইন করা আছে কি না। সন্দেহ হলে ‘Log Out of All Sessions’ দিয়ে পাসওয়ার্ড বদলে ফেলুন।
৬. ইমেইল অ্যাকাউন্টের নিরাপত্তা
আপনার ফেসবুক যে ইমেইল দিয়ে খোলা, সেই ইমেইলটি হ্যাক হলে ফেসবুক উদ্ধার করা অসম্ভব হয়ে পড়ে। তাই ইমেইলের পাসওয়ার্ডও জটিল রাখুন এবং সেখানেও টু-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন চালু রাখুন। এছাড়া ফেসবুক প্রোফাইলে আপনার ইমেইল ও ফোন নম্বর ‘Only Me’ করে রাখাই বুদ্ধিমানের কাজ।
সতর্কবার্তা: ইন্টারনেটে কোনো কিছুই ১০০% নিরাপদ নয় যদি না আপনি নিজে সচেতন হন। আপনার ব্যক্তিগত তথ্য বা ওটিপি কোড কখনোই অন্য কারো সাথে শেয়ার করবেন না।