বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক জলপথ হরমুজ প্রণালি নিয়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছে তেহরান। বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের অস্থির পরিস্থিতির মাঝেই ইরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, এই কৌশলগত রুটটি সবার জন্য উন্মুক্ত থাকছে না। দেশটির প্রভাবশালী সামরিক বাহিনী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) সম্প্রতি এই নতুন সিদ্ধান্তের কথা জানায়।
নিষেধাজ্ঞার আওতায় যারা
ইরানি বাহিনীর ঘোষণা অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক এই নৌপথে নির্দিষ্ট কিছু দেশের জাহাজ চলাচলের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। এই তালিকায় রয়েছে:
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল: প্রধান শত্রু রাষ্ট্র হিসেবে এদের কোনো জাহাজ এই পথে চলতে পারবে না।
ইউরোপীয় দেশসমূহ: ইউরোপের দেশগুলোর বাণিজ্যিক বা সামরিক জাহাজও এই নিষেধাজ্ঞার অন্তর্ভুক্ত।
মিত্র দেশসমূহ: যারা সরাসরি বা পরোক্ষভাবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে সমর্থন দেয়, তাদের জন্যও এই জলপথ বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
যাদের জন্য পথটি খোলা থাকছে
আইআরজিসির মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল কিওমার্স হায়দারি সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজকে নিশ্চিত করেছেন যে, এই নিষেধাজ্ঞা সবার জন্য নয়। যারা যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলের বলয়ের বাইরে এবং ইরানের প্রতি শত্রুভাবাপন্ন নয়, সেসব দেশের বাণিজ্যিক জাহাজগুলো আগের মতোই কোনো বাধা ছাড়া হরমুজ প্রণালি ব্যবহার করতে পারবে।
কেন হরমুজ প্রণালি এত গুরুত্বপূর্ণ?
পারস্য উপসাগর ও আরব সাগরকে সংযুক্ত করা এই সরু জলপথটিকে বলা হয় ‘বিশ্ব জ্বালানির প্রবেশদ্বার’। এর গুরুত্ব অপরিসীম কারণ:
জ্বালানি সরবরাহ: বিশ্বের মোট তেল ও এলপিজি (LPG) পরিবহনের প্রায় ২০ শতাংশ এই একটি রুট দিয়েই সম্পন্ন হয়।
মধ্যপ্রাচ্যের লাইফলাইন: মধ্যপ্রাচ্যের তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোর রপ্তানি বাণিজ্য মূলত এই প্রণালির ওপর নির্ভরশীল।
অর্থনৈতিক প্রভাব: এই রুটটি বন্ধ হওয়া মানেই বিশ্ববাজারে তেলের দাম এক লাফে কয়েক গুণ বেড়ে যাওয়া।
বর্তমান সংঘাতময় পরিস্থিতি
সম্প্রতি ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাথে ইরানের উত্তেজনা বৃদ্ধির পর এই জলপথে অস্থিরতা চরম আকার ধারণ করেছে। ব্রিটিশ সংস্থা ইউকে মেরিটাইম অপারেশনের রিপোর্ট অনুযায়ী, গত কয়েক দিনে অন্তত ১০টি তেলের ট্যাংকারে হামলার ঘটনা ঘটেছে। আইআরজিসি ইতোমধ্যেই এই পথে চলাচলকারী জাহাজগুলোকে নিয়মিত সতর্কবার্তা পাঠাচ্ছে।
আরও পড়ুন: জ্বালানি সংকটের শঙ্কা: যানবাহনে তেল বিক্রির সীমা নির্ধারণ করল বিপিসি


