নিজের এবং পরিবারের সচ্ছলতার স্বপ্ন নিয়ে আট মাস আগে মরুভূমির দেশ কুয়েতে পাড়ি জমিয়েছিলেন ফেনীর পরশুরামের যুবক নুরুল ইসলাম সাগর (৩৫)। কিন্তু নিয়তির নিষ্ঠুর পরিহাসে সেই স্বপ্ন আজ কফিনে বন্দি। কুয়েতে কয়েক দিনের কারাভোগ শেষে দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছিল তাঁকে। শনিবার মধ্যরাতে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের পরপরই হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন তিনি।
ঘটনার প্রেক্ষাপট ও প্রবাস জীবন
নিহত নুরুল ইসলাম সাগর ফেনী জেলার পরশুরাম উপজেলার চিথলিয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ শালধর গ্রামের মো. শাহজাহান মিয়ার সন্তান। তিনি দুই সন্তানের জনক এবং স্থানীয় ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন।
পরিবারিক সূত্র জানায়, ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর কিছুটা অস্থিরতার মধ্যে ছিলেন সাগর। জীবিকার তাগিদে ২০২৫ সালের আগস্ট মাসে তিনি কুয়েত যান। তবে সেখানে গিয়ে বৈধ কাগজপত্রের জটিলতায় পড়েন তিনি। কুয়েত পুলিশের অভিযানে আটক হওয়ার পর তাকে প্রায় ১৫ দিন জেল খাটতে হয়। জেল জীবন শেষে গতকাল শনিবার দিবাগত রাতে তাঁকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয়।
বিমানবন্দরে যা ঘটেছিল
রাত আনুমানিক ১টার দিকে কুয়েত থেকে আসা বিমানটি শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। বিমান থেকে নামার পরপরই সাগর প্রচণ্ড বুকে ব্যথা অনুভব করেন এবং মেঝেতে লুটিয়ে পড়েন। উপস্থিত পুলিশ সদস্যরা তাকে দ্রুত উদ্ধার করে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত ২টার দিকে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। চিকিৎসকদের প্রাথমিক ধারণা, অতিরিক্ত মানসিক চাপ ও হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে (Cardiac Arrest) তাঁর মৃত্যু হয়েছে।
পরিবারের আহাজারি ও শেষ বিদায়
ছেলের মৃত্যুর খবর শুনে স্তব্ধ হয়ে গেছেন বাবা শাহজাহান মিয়া। তিনি জানান, গভীর রাতে পরশুরাম থানা পুলিশ তাদের বাড়িতে এসে এই দুঃসংবাদ দেয়। সাগরের ছোট বোন শেফালী আক্তারের দাবি, রাজনৈতিক প্রতিকূলতা এবং প্রবাসে আটক হওয়ার পর থেকে ভাই প্রচণ্ড মানসিক চাপে ছিলেন। দেশে ফেরার পর সম্ভাব্য পরিস্থিতির কথা ভেবে তিনি হয়তো আরও ভেঙে পড়েছিলেন, যা তাঁর হার্ট অ্যাটাকের অন্যতম কারণ হতে পারে।
পরশুরাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আশরাফুল ইসলাম জানান, বিমানবন্দর থানা থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে নিহতের পরিবারকে জানানো হয় এবং স্বজনরা গিয়ে মরদেহ গ্রহণ করেন। ওসির তথ্যমতে, সাগরের বিরুদ্ধে থানায় কোনো মামলা ছিল না।
স্বপ্ন পূরণের লক্ষ্যে দেশান্তরী হওয়া একজন রেমিট্যান্স যোদ্ধার এভাবে বিমানবন্দরে প্রাণ হারানোয় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
আরও পড়ুন: হিলিতে নিজ কন্যাকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে পাষণ্ড পিতা গ্রেফতার