দেশের বিদ্যমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন এবং গণভোটের রায় কার্যকর করতে প্রয়োজনে সংসদ ও রাজপথ একাকার করে ফেলার ঘোষণা দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। শুক্রবার (২৪ এপ্রিল ২০২৬) সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আয়োজিত এক বিশাল গণসমাবেশে তিনি সরকারকে এই কড়া বার্তা দেন।
মামুনুল হক ও রাজপথের শক্তি
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস আয়োজিত এই গণসমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘একটি বিশেষ মহলের ষড়যন্ত্রের কারণে আল্লামা মামুনুল হককে সংসদে যাওয়া থেকে বিরত রাখা সম্ভব হয়েছে। কিন্তু রাজপথে তার জনপ্রিয়তা ও অবস্থানকে কেউ দমাতে পারবে না। আমরা আজ সংসদে আছি জনগণের অধিকার এবং জুলাই সনদের কথা বলার জন্য। আর রাজপথে অতন্দ্র প্রহরীর মতো লড়াই করছেন মামুনুল হক এবং নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর মতো নেতারা। লক্ষ্য অর্জনে যদি প্রয়োজন হয়, তবে সংসদ আর রাজপথের এই শক্তি মিলেমিশে এক হয়ে যাবে।’
জনদুর্ভোগ ও সরকারের সমালোচনা
বক্তব্যে দেশের বর্তমান অস্থিতিশীল অর্থনৈতিক পরিস্থিতির কথা তুলে ধরেন এনসিপি আহ্বায়ক। তিনি অভিযোগ করেন:
-
দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতিতে সাধারণ মানুষ দিশেহারা।
-
জ্বালানি সংকট ও খাদ্য নিরাপত্তা (হাম সংকট) চরম আকার ধারণ করেছে।
-
সরকার প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে কুক্ষিগত করে দলীয়করণ করছে।
তিনি আরও যোগ করেন, ‘আমরা এতদিন ধৈর্য ধরেছি এবং সরকারকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছি। কিন্তু সরকার বারবার তাদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করছে। বিরোধী দল সবসময় দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের চেষ্টা করলেও সরকার জনগণের ভাষা বুঝতে ব্যর্থ হচ্ছে।’
ফ্যাসিবাদ ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা
নাহিদ ইসলাম স্পষ্টভাবে জানান যে, দেশের জনগণ আর কোনো নতুন বা পুরনো স্বৈরতন্ত্রকে মেনে নেবে না। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শুরু করে বিচার বিভাগ পর্যন্ত সবখানে দলীয় গুন্ডাবাহিনী লেলিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। তিনি বলেন, ‘দেশের দেশপ্রেমিক জনতা জেগে উঠেছে। যারা পুরনো ফ্যাসিবাদী সংস্কৃতি টিকিয়ে রাখতে চায়, তাদের কোনোভাবেই আর প্রশ্রয় দেওয়া হবে না।’
সরকারকে চূড়ান্ত হুঁশিয়ারি
গণভোটের রায় মেনে না নিলে সরকারের পরিণতি ভয়াবহ হবে বলে সতর্ক করে দেন নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, ‘গায়ের জোরে বা সংসদের দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা দেখিয়ে যদি গণরায় প্রত্যাখ্যান করা হয়, তবে এই সরকারকে ইতিহাসের ঘৃণ্য ফ্যাসিবাদীদের মতোই বিদায় নিতে হবে। যতক্ষণ না গণভোটের রায় বাস্তবায়ন হচ্ছে, আমাদের লড়াই থামবে না।’
উল্লেখ্য, এই গণসমাবেশে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডাঃ শফিকুর রহমান, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক, এলডিপি চেয়ারম্যান কর্নেল অলি আহমদ এবং এনসিপি’র মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীসহ ১১-দলীয় জোটের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
আরও পড়ুন: যুক্তরাষ্ট্রে দুই বাংলাদেশি পিএইচডি শিক্ষার্থীকে নৃশংসভাবে হত্যা: যা জানা গেছে