হজের সংক্ষিপ্ত গাইডলাইন: প্রস্তুতি থেকে বিদায়ী তাওয়াফ

হজের সংক্ষিপ্ত গাইডলাইন

ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের মধ্যে হজ অন্যতম একটি আর্থিক ও শারীরিক ইবাদত। প্রত্যেক সামর্থ্যবান মুসলমানের ওপর জীবনে অন্তত একবার হজ করা ফরজ। হজের প্রতিটি ধাপ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ, তাই নিয়মগুলো সঠিকভাবে জানা থাকা প্রয়োজন। বিশেষ করে বাংলাদেশ থেকে যারা হজে যান, তারা সাধারণত হজে তামাত্তু (একই সফরে ভিন্ন ভিন্ন ইহরামে উমরাহ ও হজ) পালন করেন।

১. হজের প্রকারভেদ

হজ প্রধানত তিন প্রকার:

  • হজে তামাত্তু: প্রথমে উমরাহ পালন করে হালাল হয়ে যাওয়া এবং পরে হজের ইহরাম বাঁধা।

  • হজে কিরান: একই ইহরামে উমরাহ ও হজ সম্পন্ন করা।

  • হজে ইফরাদ: উমরাহ ছাড়া শুধু হজের নিয়ম পালন করা।

২. উমরাহ পালনের নিয়ম (হজে তামাত্তুকারীদের জন্য)

যাত্রার শুরুতে মক্কায় গেলে বাংলাদেশ বিমানবন্দর থেকে ইহরাম পরিধান করা উত্তম। মক্কায় পৌঁছে হোটেলে বিশ্রাম নিয়ে নিচের কাজগুলো করতে হবে:

  • তাওয়াফ: পবিত্র কাবার চারপাশ সাতবার প্রদক্ষিণ করা। হাজরে আসওয়াদ থেকে শুরু করে সেখানেই শেষ করা।

  • রমল ও ইজতিবা: তাওয়াফের প্রথম তিন চক্করে পুরুষদের বীরদর্পে দ্রুত হাঁটা (রমল) এবং ডান কাঁধ খোলা রেখে চাদর পরা (ইজতিবা) সুন্নত।

  • সাঈ: সাফা ও মারওয়া পাহাড়ের মধ্যে সাতবার দৌড়ানো (সাফা থেকে শুরু করে মারওয়ায় শেষ)।

  • হলক বা কসর: মাথা মুণ্ডানো বা চুল ছোট করার মাধ্যমে ইহরাম থেকে হালাল হওয়া।

৩. হজের মূল পাঁচ দিন (৮ থেকে ১২ জিলহজ)

হজের মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয় ৮ জিলহজ থেকে। নিচে ধারাবাহিকভাবে বর্ণনা করা হলো:

৮ জিলহজ: মিনার পথে যাত্রা

হোটেল থেকে হজের নিয়তে ইহরাম বেঁধে মিনার উদ্দেশ্যে রওনা হতে হয়। মিনায় অবস্থান করে জোহর, আসর, মাগরিব, এশা এবং পরদিন ফজর—এই পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করা সুন্নত।

৯ জিলহজ: আরাফার ময়দান ও মুজদালিফা

  • আরাফাহ: এদিন সকালে মিনা থেকে আরাফার ময়দানে যেতে হয়। এটি হজের প্রধান রোকন। সেখানে জোহর ও আসর একত্রে আদায় করে সূর্যাস্ত পর্যন্ত কান্নাকাটি ও দোয়া-দরুদ পাঠ করতে হয়।

  • মুজদালিফা: সূর্যাস্তের পর নামাজ না পড়ে মুজদালিফার দিকে রওনা হতে হয়। সেখানে গিয়ে মাগরিব ও এশা একত্রে পড়তে হয় এবং খোলা আকাশের নিচে রাত যাপন করতে হয়। এখান থেকেই শয়তানকে মারার জন্য কঙ্কর সংগ্রহ করতে হয়।

১০ জিলহজ: কঙ্কর নিক্ষেপ, কোরবানি ও তাওয়াফ

  • রামি: মুজদালিফা থেকে মিনায় ফিরে বড় শয়তানকে (জামরাতে আকাবা) ৭টি পাথর নিক্ষেপ করা।

  • কোরবানি ও হলক: পাথর নিক্ষেপের পর কোরবানি করা এবং মাথা মুণ্ডন করে ইহরাম ত্যাগ করা।

  • তাওয়াফে জিয়ারত: এই দিন বা পরবর্তী দুই দিনের মধ্যে কাবার ফরজ তাওয়াফ ও সাঈ সম্পন্ন করতে হয়।

১১ ও ১২ জিলহজ: মিনায় অবস্থান ও কঙ্কর নিক্ষেপ

এই দুই দিন মিনায় অবস্থান করা ওয়াজিব। প্রতিদিন সূর্য ঢলার পর ছোট, মধ্যম ও বড়—তিনটি শয়তানকে ৭টি করে মোট ২১টি কঙ্কর নিক্ষেপ করতে হয়। ১২ তারিখ কঙ্কর নিক্ষেপ শেষ করে সূর্যাস্তের আগে মিনা ত্যাগ করতে হয়।

উপসংহার

হজ কেবল একটি সফর নয়, এটি মহান আল্লাহর সান্নিধ্য লাভের এক সুবর্ণ সুযোগ। নিয়মগুলো সঠিকভাবে পালন করলে এবং ধৈর্য ধারণ করলে এই ইবাদত কবুল হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে। আল্লাহ আমাদের সবাইকে কবুল হজ নসিব করুন।

আরও পড়ুন: ইসলামের আগে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন সভ্যতায় রোজা রাখার সংস্কৃতি

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top