ঢাকার ধামরাইয়ে নিজ ঘরে এক এসএসসি পরীক্ষার্থীকে অত্যন্ত নৃশংসভাবে গলা কেটে হত্যা করার অভিযোগ উঠেছে। নিহত শিক্ষার্থীর নাম নাহিদা আক্তার (১৬)। বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল ২০২৬) বিকেলে ধামরাইয়ের পশ্চিম লাকুরিয়াপাড়া এলাকায় এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে। এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে এবং জনমনে তীব্র আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে।
ঘটনার বিবরণ
নিহত নাহিদা ধামরাই সেন্ট্রাল স্কুলের বাণিজ্য বিভাগ থেকে চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করছিল। তার মা লিজা আক্তার একজন প্রবাসী (সৌদি আরব) এবং বাবা ঝালকাঠির নলছিটি এলাকায় থাকেন। নাহিদা তার নানি দেলুয়ারা বেগমের সাথে পশ্চিম লাকুরিয়াপাড়ার একটি তিন তলা ভবনের নিচ তলায় ভাড়া থাকত।
স্বজনদের সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার দিন পরীক্ষা শেষ করে দুপুর দেড়টার দিকে নাহিদা বাসায় ফেরে। বিকেল সোয়া ৪টার দিকে তার নানি দুধ কেনার জন্য বাইরে যান। সন্ধ্যা সোয়া ৬টার দিকে তিনি বাসায় ফিরে মেঝেতে নাহিদার নিথর দেহ রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন।
পুলিশের প্রাথমিক পদক্ষেপ ও আটক
খবর পেয়ে পুলিশ, ডিবি, র্যাব এবং পিবিআই (PBI) এর সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। পুলিশ প্রাথমিক তদন্তের স্বার্থে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য শামিম হোসেন (৩৩) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করেছে। আটক ব্যক্তি পেশায় একজন রাজমিস্ত্রি এবং তিনি নাহিদাদের পাশের রুমেই স্ত্রীসহ ভাড়া থাকতেন।
চুরির উদ্দেশ্যে কি এই হত্যাকাণ্ড?
নিহতের নানি দেলুয়ারা বেগমের দাবি, নাহিদার কানে ৩ আনা এবং গলায় ৭ আনার স্বর্ণের চেইন ছিল, যা দুর্বৃত্তরা লুটে নিয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, চুরির উদ্দেশ্যেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হতে পারে অথবা হত্যাকাণ্ডের পর চুরির নাটক সাজানো হয়েছে। নিহতের পরিবার এই ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
ধামরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হুদা খান জানিয়েছেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তা নিয়ে ঘাতককে শনাক্ত করার চেষ্টা চালাচ্ছে এবং তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
আরও পড়ুন: মুফতি আমির হামজার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা: বিপাকে কুষ্টিয়ার সংসদ সদস্য