চট্টগ্রামের সন্দ্বীপে মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করতে গিয়ে একদল দুর্বৃত্তের বর্বরোচিত হামলার শিকার হয়েছেন পুলিশ সদস্যরা। এই সংঘর্ষের ঘটনায় দুই উপ-পরিদর্শকসহ (এসআই) অন্তত ৬ জন পুলিশ সদস্য গুরুতর আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে তিনজনকে আটক করেছে।
ঘটনার সূত্রপাত ও বিস্তারিত
শুক্রবার দিবাগত রাত আনুমানিক ১টার দিকে সন্দ্বীপ উপজেলার সারিকাইত ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয়রা মাদকসহ এক ব্যক্তিকে আটক করে রেখেছে—এমন সংবাদের ভিত্তিতে সন্দ্বীপ থানা পুলিশের একটি টিম সেখানে পৌঁছায়।
ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশ দেখতে পায়, মাদক লেনদেন বা অভ্যন্তরীণ কোনো দ্বন্দ্বে স্থানীয় দুটি পক্ষ ভয়াবহ সংঘর্ষে লিপ্ত রয়েছে। এই সংঘর্ষ চলাকালীন এক পক্ষের একজন সদস্য মারাত্মকভাবে আহত হয়। উত্তেজিত জনতা ও ওই পক্ষের লোকজন কোনো কারণ ছাড়াই ঘটনার জন্য পুলিশকে দায়ী করতে শুরু করে। একপর্যায়ে ৫০ থেকে ৬০ জনের একটি উশৃঙ্খল দল সংঘবদ্ধ হয়ে পুলিশ সদস্যদের চারপাশ থেকে অবরুদ্ধ করে ফেলে এবং দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে অতর্কিত হামলা চালায়।
আহতের তালিকা ও উদ্ধার অভিযান
দুর্বৃত্তদের এই হামলায় সন্দ্বীপ থানার এসআই আপেল এবং এসআই নূর মোহাম্মদ সহ মোট ৬ জন সদস্য জখম হন। ঘটনার খবর পেয়ে সন্দ্বীপ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুজন হালদারের নেতৃত্বে পুলিশের অতিরিক্ত ফোর্স দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। অবরুদ্ধ পুলিশ সদস্যদের উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
পুলিশের বর্তমান অবস্থান ও আইনি ব্যবস্থা
সন্দ্বীপ থানার ওসি সুজন হালদার গণমাধ্যমকে জানান যে, সরকারি কাজে বাধা প্রদান এবং পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করার কাজ চলছে। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ইতোমধ্যে ৩ জনকে আটক করা হয়েছে। হামলাকারীদের বিরুদ্ধে একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করার প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে।
ওসি আরও স্পষ্ট করে জানিয়েছেন যে, পুলিশের ওপর এ ধরনের ন্যাক্কারজনক হামলা চালিয়ে মাদকবিরোধী কার্যক্রম ব্যাহত করা যাবে না। সন্দ্বীপে মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বজায় থাকবে এবং সাঁড়াশি অভিযান আরও জোরদার করা হবে।
আরও পড়ুন: জুলাই সনদ ও গণভোট বাস্তবায়নে রাজপথ-সংসদ এক হবে: নাহিদ ইসলামের হুঁশিয়ারি