মিরপুরে ইতিহাস: পাকিস্তানকে হারিয়ে ওয়ানডে সিরিজ জিতলো বাংলাদেশ

বাংলাদেশ বনাম পাকিস্তান ওয়ানডে সিরিজ ২০২৬

ক্রিকেট মাঠে বাংলাদেশ বনাম পাকিস্তান লড়াই মানেই বাড়তি উত্তেজনা। আর সেই লড়াই যদি হয় সিরিজ নির্ধারণী, তবে রোমাঞ্চের পারদ আকাশ ছুঁয়ে যায়। মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ঠিক এমন এক শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচে পাকিস্তানকে ১১ রানে হারিয়ে ২-১ ব্যবধানে ওয়ানডে সিরিজ নিজেদের করে নিল মেহেদী হাসান মিরাজের দল।

২০১৫ সালের সেই ঐতিহাসিক ‘বাংলাওয়াশ’ এর পর আবারও পাকিস্তানের বিপক্ষে দ্বিপাক্ষিক ওয়ানডে সিরিজ জয়ের অনন্য এক রেকর্ড গড়ল টাইগাররা।

তানজিদ তামিমের অভিষেক সেঞ্চুরিতে লড়াকু পুঁজি

টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুটা স্বপ্নের মতো করেছিল বাংলাদেশ। দুই ওপেনার সাইফ হাসান ও তানজিদ হাসান তামিম উদ্বোধনী জুটিতেই স্কোরবোর্ডে ১০৫ রান যোগ করেন। সাইফ ৩৬ রানে ফিরলেও এক প্রান্ত আগলে রেখে পাকিস্তানি বোলারদের শাসন করেন তানজিদ তামিম। মাত্র ৯৮ বলে তুলে নেন ক্যারিয়ারের প্রথম ওয়ানডে সেঞ্চুরি। শেষ পর্যন্ত ১০৭ বলে ১০৭ রানের (৬টি চার ও ৭টি ছক্কা) এক নান্দনিক ইনিংস খেলে আউট হন তিনি।

মাঝপথে নাজমুল হোসেন শান্ত (২৭) ও লিটন দাসের (৪১) ছোট ছোট অবদান এবং শেষ দিকে তাওহীদ হৃদয়ের অপরাজিত ৪৮ রানের ক্যামিওতে ৫০ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে ২৯০ রানের চ্যালেঞ্জিং স্কোর দাঁড় করায় বাংলাদেশ। পাকিস্তানের হয়ে হারিস রউফ ৩টি উইকেট শিকার করেন।

তাসকিন-নাহিদের তোপে লণ্ডভণ্ড পাকিস্তানের টপ অর্ডার

২৯১ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই বাংলাদেশের পেস আক্রমণের মুখে পড়ে পাকিস্তান। তাসকিন আহমেদ ও তরুণ তুর্কি নাহিদ রানার গতির ঝড়ে মাত্র ১৭ রানেই ৩ উইকেট হারিয়ে ধুঁকতে থাকে সফরকারীরা। সাহিবজাদা ফারহান, মাজ সাদাকাত এবং খোদ অধিনায়ক বাবর আজম (রিজওয়ান) কেউই দুই অঙ্কের ঘরে পৌঁছাতে পারেননি।

সালমান আলি আগার একাকী লড়াই ও শেষ মুহূর্তের নাটকীয়তা

এক সময় ১০০ রানের আগেই ৫ উইকেট হারিয়ে পাকিস্তান যখন বড় হারের শঙ্কায়, তখন হাল ধরেন সালমান আলি আগা। অভিষেক ম্যাচ খেলতে নামা সাদ মাসুদকে (৩৮) সাথে নিয়ে ইনিংস পুনর্গঠন করেন তিনি। সালমান তুলে নেন দুর্দান্ত এক সেঞ্চুরি (১০৬ রান)।

ম্যাচের শেষ দিকে ফাহিম আশরাফ ও শাহীন আফ্রিদি মিলে জয়ের সম্ভাবনা তৈরি করেছিলেন। কিন্তু টাইগার স্পিডস্টার তাসকিন আহমেদের সময়োপযোগী ব্রেক-থ্রু পাকিস্তানকে লক্ষ্য থেকে দূরে সরিয়ে দেয়। তাসকিনের ৪ উইকেট এবং মুস্তাফিজের ৩ উইকেটের কল্যাণে ২৭৯ রানেই অলআউট হয় পাকিস্তান। ১১ রানের রোমাঞ্চকর জয়ে বুনো উল্লাসে মেতে ওঠে মিরপুর।

সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড:

  • বাংলাদেশ: ২৯০/৫ (৫০ ওভার); তানজিদ ১০৭, হৃদয় ৪৮*, লিটন ৪১। (রউফ ৩/৫২)

  • পাকিস্তান: ২৭৯/১০ (৫০ ওভার); সালমান ১০৬, মাসুদ ৩৮, শাহীন ৩৭। (তাসকিন ৪/৪৯, মুস্তাফিজ ৩/৫৪)

  • ফলাফল: বাংলাদেশ ১১ রানে জয়ী।

  • সিরিজ: বাংলাদেশ ২-১ ব্যবধানে জয়ী।

আরও পড়ুন: নারীর ক্ষমতায়নে নতুন দিগন্ত: আজ উদ্বোধন হচ্ছে ‘ফ্যামিলি কার্ড’, সুবিধা পাবেন ৩৭০০০ নারী

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top