নারীর ক্ষমতায়নে নতুন দিগন্ত: আজ উদ্বোধন হচ্ছে ‘ফ্যামিলি কার্ড’, সুবিধা পাবেন ৩৭০০০ নারী

ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি ২০২৬

দেশের প্রান্তিক ও নিম্নআয়ের পরিবারগুলোর সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে আজ এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে বর্তমান সরকার। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, নারীর ক্ষমতায়ন, অর্থনৈতিক মুক্তি এবং সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আজ আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন হতে যাচ্ছে বহুল প্রতীক্ষিত ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ও প্রথম ধাপের সুবিধাভোগী

আজ রাজধানীর বনানীস্থ টিঅ্যান্ডটি খেলার মাঠে (কড়াইল বস্তি সংলগ্ন) এক জমকালো অনুষ্ঠানের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই কর্মসূচির শুভ উদ্বোধন করবেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে তিনি দেশের নারী প্রধান পরিবারগুলোর হাতে এই বিশেষ কার্ড তুলে দেবেন।

সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন জানান, পাইলট প্রকল্পের প্রথম ধাপে দেশের ১৩টি জেলার ১৫টি ওয়ার্ডে এই কার্যক্রম শুরু হচ্ছে। প্রাথমিক পর্যায়ে মোট ৩৭ হাজার ৫৬৭টি নারী প্রধান পরিবার এই কার্ডের আওতায় সুবিধা পাবেন।

ফ্যামিলি কার্ডের মূল সুবিধা ও বৈশিষ্ট্য

এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য হলো পরিবারে নারীকে প্রধান হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া এবং তাদের হাতে সরাসরি আর্থিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়া।

  • মাসিক ভাতা: নির্বাচিত প্রতিটি পরিবার মাসিক ২,৫০০ টাকা করে নগদ সহায়তা পাবে।

  • ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা: বর্তমানে নগদ অর্থ দেওয়া হলেও ভবিষ্যতে সমমূল্যের নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্য সরবরাহের পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।

  • স্মার্ট কার্ড প্রযুক্তি: ফ্যামিলি কার্ডগুলো অত্যন্ত আধুনিক। এতে কন্টাক্টলেস চিপ, QR কোড এবং NFC (Near Field Communication) প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে, যা কার্ডটিকে নিরাপদ ও দীর্ঘস্থায়ী করবে।

  • সরাসরি অর্থ প্রদান: জি-টু-পি (G2P) পদ্ধতিতে কোনো মধ্যস্বত্বভোগী ছাড়াই উপকারভোগীর মোবাইল ওয়ালেট বা ব্যাংক অ্যাকাউন্টে সরাসরি টাকা পৌঁছে যাবে।

“নারীর ক্ষমতায়ন এবং সামাজিক ন্যায় প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ। প্রতিটি কার্ডের মাধ্যমে একটি পরিবারের সর্বোচ্চ ৫ জন সদস্য সুবিধা পাবেন।” – অধ্যাপক ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন

যেভাবে নির্বাচিত হয়েছে উপকারভোগী (স্বচ্ছতা ও যাচাই)

রাজনৈতিক প্রভাব বা স্বজনপ্রীতি মুক্ত রাখতে সম্পূর্ণ বৈজ্ঞানিক উপায়ে উপকারভোগী নির্বাচন করা হয়েছে।

  1. তথ্য সংগ্রহ: ওয়ার্ড কমিটির সদস্যরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে পরিবারের সদস্য সংখ্যা, শিক্ষা, আবাসন এবং গৃহস্থালি সামগ্রীর তথ্য সংগ্রহ করেছেন।

  2. সফটওয়্যার ভিত্তিক যাচাই: সংগৃহীত তথ্য ‘প্রক্সি মিনস টেস্ট’ (PMT) বা দারিদ্র্য সূচক সফটওয়্যারের মাধ্যমে বিশ্লেষণ করা হয়েছে।

  3. শ্রেণিবিন্যাস: এর মাধ্যমে পরিবারগুলোকে হতদরিদ্র, দরিদ্র ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত শ্রেণিতে ভাগ করে প্রকৃত প্রাপকদের তালিকা চূড়ান্ত করা হয়েছে।

কোথায় কোথায় চালু হচ্ছে এই প্রকল্প?

আজকের উদ্বোধনের পর একযোগে রাজধানীর মিরপুর (অলিমিয়ারটেক ও বাগানবাড়ী বস্তি), রাজবাড়ীর পাংশা, চট্টগ্রামের পতেঙ্গা, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর, বান্দরবানের লামা, খুলনার খালিশপুর, ভোলার চরফ্যাশন, সুনামগঞ্জের দিরাই, কিশোরগঞ্জের ভৈরব, বগুড়া সদর, নাটোরের লালপুর, ঠাকুরগাঁও সদর এবং দিনাজপুরের নবাবগঞ্জে এই কর্মসূচি চালু হবে।

যোগ্যতার শর্তাবলী

স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে কিছু কঠোর নিয়ম রাখা হয়েছে:

  • যদি কোনো নারী গৃহপ্রধান অন্য কোনো সরকারি ভাতা পান, তবে এই সুবিধা কার্যকর হবে না।

  • সরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের চাকরিজীবী বা পেনশনভোগী পরিবার এই কার্ড পাবে না।

  • বিলাসবহুল সম্পদ (গাড়ি, এসি) বা ৫ লাখ টাকার বেশি সঞ্চয়পত্র থাকলে সেই পরিবার অযোগ্য বলে বিবেচিত হবে।

আরও পড়ুন: ফ্যামিলি কার্ড সম্পর্কে বিস্তারিত | কি কি কাগজ লাগবে

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top