ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী এবং পরিচিত নাট্যকর্মী মুনিরা মাহজাবিন মিমোর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। রাজধানীর বাড্ডা এলাকার একটি বাসা থেকে রোববার সকাল ৮টার দিকে এই মর্মান্তিক ঘটনার সংবাদ পাওয়া যায়। ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হওয়া সুইসাইড নোটে বিভাগেরই একজন সহযোগী অধ্যাপকের নাম উল্লেখ থাকায় তাকে আটক করা হয়েছে।
যেভাবে উদ্ধার হয় মরদেহ
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, মুনিরা মাহজাবিন মিমো সাধারণত রাতে ঘুমানোর সময় দরজা খোলা রাখতেন। কিন্তু ফজরের আজানের পরও তার ঘরের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ দেখে পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। বারবার ডাকাডাকি ও ধাক্কাধাক্কি করেও কোনো সাড়া না পেয়ে শেষ পর্যন্ত দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন তারা। সেখানে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় মিমোর মরদেহ দেখতে পান পরিবারের সদস্যরা। সঙ্গে সঙ্গে পুলিশকে খবর দেওয়া হলে তারা ঘটনাস্থলে এসে মরদেহ উদ্ধার করে।
বাড্ডা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী মো. নাসিরুল আমীন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে মিমো আত্মহত্যা করেছেন। পরবর্তী পদক্ষেপ হিসেবে মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
সুইসাইড নোটে কী ছিল
ঘটনাস্থল তল্লাশি করতে গিয়ে পুলিশ একটি সুইসাইড নোট উদ্ধার করে। নোটটিতে লেখা ছিল — “সুদীপ স্যারকে ৫০ হাজার টাকা দিতে হবে, হানি আর সুদীপ স্যার ভালো থাকো, স্যারের দেওয়া গিফটগুলো ফেরত দিও।” এই নোটে উল্লিখিত ‘সুদীপ স্যার’ হলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সুদীপ চক্রবর্তী।
শিক্ষক সুদীপ চক্রবর্তী আটক
সুইসাইড নোটে নাম থাকা এবং ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার সন্দেহে ঢাবির সহযোগী অধ্যাপক সুদীপ চক্রবর্তীকে আটক করেছে পুলিশ। ওসি কাজী মো. নাসিরুল আমীন জানান, মিমো মৃত্যুর আগের দিন অর্থাৎ শনিবার রাতে সুদীপ চক্রবর্তীর সঙ্গে কথা বলেছিলেন। এই তথ্য এবং সুইসাইড নোটে উল্লিখিত বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে পুলিশ সন্দেহ করছে যে ঘটনার পেছনে সহযোগী অধ্যাপকের সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে। তদন্তের স্বার্থে তাকে আটক করা হয়েছে এবং জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।
কে ছিলেন মুনিরা মাহজাবিন মিমো
মুনিরা মাহজাবিন মিমো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের একজন মেধাবী শিক্ষার্থী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। পড়াশোনার পাশাপাশি তিনি নাট্যকর্মী হিসেবেও সক্রিয় ছিলেন। থিয়েটার অঙ্গনে তার বিচরণ ছিল উল্লেখযোগ্য — নাটকে অভিনয়ের পাশাপাশি নির্দেশনা দিতেও দেখা গেছে তাকে। তার এই অকালমৃত্যুতে বিশ্ববিদ্যালয় ও নাট্য অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
বর্তমানে পুলিশ মামলার তদন্ত অব্যাহত রেখেছে এবং ময়নাতদন্তের রিপোর্টের অপেক্ষায় রয়েছে। সুদীপ চক্রবর্তীকে আটক রেখে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে বাড্ডা থানা।
⚠️ সংবেদনশীল বিষয়ে সতর্কতা: মানসিক স্বাস্থ্য সংকটে থাকলে বা কাউকে বিপদে দেখলে কান পেতে রই হেল্পলাইনে যোগাযোগ করুন: 01779-554391
আরও পড়ুন: সিয়ামের স্ত্রী অবন্তী কি সিনেমায় আসছেন? ভাইরাল ভিডিও ও অভিনয় নিয়ে যা জানালেন তিনি
