এপস্টাইন বিতর্কে ট্রাম্পের কড়া জবাব: “আমি ধর্ষক নই, কাউকে ধর্ষণ করিনি”

এপস্টাইন ইস্যুতে ট্রাম্পের বক্তব্য

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রোববার (২৭ এপ্রিল, ২০২৫) সিবিএস নিউজের জনপ্রিয় উপস্থাপক নোরাহ ও’ডোনেলকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তার বিরুদ্ধে আনা নানা অভিযোগ সরাসরি নাকচ করে দেন। বিশেষত জেফ্রি এপস্টাইন ইস্যুকে কেন্দ্র করে সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে ও সংবাদমাধ্যমে যে তরঙ্গ উঠেছে, তার প্রেক্ষিতে ট্রাম্প অত্যন্ত তীব্র ভাষায় বলেন — “আমি ধর্ষক নই। আমি কাউকে কখনো ধর্ষণ করিনি।”

যে কারণে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে সাক্ষাৎকার

ঘটনার সূত্রপাত ওয়াশিংটনে আয়োজিত ‘হোয়াইট হাউস করেসপন্ডেন্টস ডিনার’ ঘিরে। সেখানে সশস্ত্র হামলার চেষ্টা চালায় ক্যালিফোর্নিয়ার ৩১ বছর বয়সী তরুণ কোল টমাস অ্যালেন। হামলার পর তার লেখা একটি ইশতেহার উদ্ধার করা হয়, যেখানে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে কিছু গুরুতর ভাষা ও ইঙ্গিত ব্যবহার করা হয়েছিল।

সাক্ষাৎকারে নোরাহ ও’ডোনেল ওই ইশতেহারের কিছু অংশ উদ্ধৃত করলে ট্রাম্প রীতিমতো ক্ষোভে ফেটে পড়েন। তিনি সংবাদিকাকে সরাসরি প্রশ্ন ছুড়ে দেন — একজন ‘অসুস্থ’ ও ‘উগ্রবাদী’ ব্যক্তির লেখা “আজেবাজে কথা” প্রকাশ্যে পড়া কতটা দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা?

এপস্টাইন প্রসঙ্গ কীভাবে এলো

ইশতেহারে সরাসরি জেফ্রি এপস্টাইনের নাম না থাকলেও ট্রাম্প নিজেই ব্যাখ্যা করেন যে, ওই ভাষাগুলো মূলত এপস্টাইনের সঙ্গে তার কথিত সম্পর্ককে ইঙ্গিত করে বলা হয়েছে। প্রয়াত বিতর্কিত অর্থদাতা জেফ্রি এপস্টাইনের যৌন কেলেঙ্কারির সঙ্গে আমেরিকার অনেক বিখ্যাত মুখের নাম জড়িয়ে পড়েছে বিগত কয়েক বছরে। ট্রাম্পও এই তালিকা থেকে রেহাই পাননি। তবে তিনি বারবার স্পষ্ট করে বলেছেন, এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং তিনি সব ধরনের আইনি প্রক্রিয়ায় নির্দোষ প্রমাণিত হয়েছেন।

এই সাক্ষাৎকারেও ট্রাম্প ডেমোক্র্যাটিক নেতাদের দিকে আঙুল তুলে বলেন যে, এপস্টাইন নেটওয়ার্কের সঙ্গে আসলে বিরোধী শিবিরের নেতারাই বেশি জড়িত ছিলেন। তিনি সাংবাদিকার উদ্দেশে বলেন, “আপনার লজ্জা হওয়া উচিত একজন মানসিকভাবে বিকারগ্রস্ত মানুষের লেখা এসব আবর্জনা পাঠকদের সামনে তুলে ধরার জন্য।”

হামলাকারী কোল অ্যালেন সম্পর্কে ট্রাম্পের মূল্যায়ন

হামলাকারী কোল টমাস অ্যালেনকে ট্রাম্প একজন “চরম উগ্রবাদী” হিসেবে চিহ্নিত করেন। তার মতে, অ্যালেন একসময় নিষ্ঠাবান খ্রিস্টান ছিলেন, কিন্তু পরবর্তীতে ধর্মবিদ্বেষী মনোভাবে পরিণত হন। ট্রাম্প বিশ্বাস করেন, এই রূপান্তর কোনো না কোনোভাবে বাম রাজনৈতিক মতাদর্শ দ্বারা প্রভাবিত।

রাজনৈতিক সহিংসতার জন্য কাদের দায়ী করলেন ট্রাম্প

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প স্পষ্টভাবে ডেমোক্র্যাট নেতাদের “হেট স্পিচ” বা বিদ্বেষমূলক বক্তব্যকে এই সহিংসতার মূল কারণ হিসেবে দায়ী করেন। তিনি বলেন, বিরোধী দলের নেতারা যেভাবে তার বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে বিষোদ্গার করছেন, তা দেশে অস্থিরতা ও সহিংসতাকে উস্কে দিচ্ছে। উল্লেখ্য, গত দুই বছরে এটি ছিল ট্রাম্পের বিরুদ্ধে তৃতীয় দফার প্রাণনাশের চেষ্টা — যা যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক পরিবেশের ভয়াবহ পরিস্থিতি তুলে ধরে।

সাহসিকতার গল্প বললেন ট্রাম্প নিজেই

ঘটনার সময় নিজের প্রতিক্রিয়া বর্ণনা করতে গিয়ে ট্রাম্প জানান, সিক্রেট সার্ভিস তাকে দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে চাইলেও তিনি কিছুটা সময় থেকে পরিস্থিতি নিজের চোখে পর্যবেক্ষণ করতে চেয়েছিলেন। এমনকি গুলির শব্দেও তিনি আতঙ্কিত হননি বলে দাবি করেন। ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সকে তাৎক্ষণিকভাবে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হলেও ট্রাম্প কয়েক মুহূর্ত পরিস্থিতির উপর নজর রাখেন।

ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পও এই ঘটনায় অত্যন্ত শান্ত ও ধৈর্যশীল মনোভাব দেখিয়েছেন বলে জানান প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।

সংবাদমাধ্যমের ভূমিকা নিয়ে ট্রাম্পের কঠোর সমালোচনা

ট্রাম্প এই সাক্ষাৎকারে একাধিকবার মূলধারার সংবাদমাধ্যমকে তীব্র ভাষায় সমালোচনা করেন। তার মতে, মিডিয়া ইচ্ছাকৃতভাবে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াচ্ছে এবং একজন মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তির ইশতেহার প্রকাশ করে জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি করছে। এটি তার দীর্ঘদিনের অবস্থানেরই ধারাবাহিকতা — তিনি বরাবরই মূলধারার মিডিয়াকে “ফেক নিউজ” হিসেবে চিহ্নিত করে আসছেন।

উপসংহার

এপস্টাইন বিতর্ক, হামলার ঘটনা এবং সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে দ্বন্দ্ব — সব মিলিয়ে এই সাক্ষাৎকারটি ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের রাজনৈতিক চাপ ও বাস্তবতাকে স্পষ্টভাবে তুলে ধরে। তিনি শুধু নিজের সাফাই গাননি, বরং একই সঙ্গে বিরোধীদের বিরুদ্ধে পাল্টা আক্রমণে সরব হয়েছেন। আমেরিকার বিভক্ত রাজনৈতিক পরিবেশে এই ধরনের সাক্ষাৎকার নতুন বিতর্কের জন্ম দেবে, তা বলাই বাহুল্য।

আরও পড়ুন: ওয়াশিংটনে গুলির ঘটনায় ইরানের সম্পৃক্ততা নেই বলে মনে করেন ট্রাম্প — তবুও থামবেন না যুদ্ধ থেকে

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top