‘যুদ্ধে নামলে গুলি খাওয়ার ভয় করলে চলবে না’: পেসারদের ইনজুরি ও নাহিদ রানার অদম্য মানসিকতা

নাহিদ রানা পেস বোলিং ইনজুরি

ক্রিকেট মাঠে গতির ঝড় তোলা পেস বোলারদের জীবন যতটা গ্ল্যামারাস, তার পেছনের লড়াইটা ঠিক ততটাই কঠিন। একজন ব্যাটার যেখানে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ক্রিজে থেকে রান তোলেন, একজন স্পিনার যেখানে আঙুলের জাদুতে কুপোকাত করেন প্রতিপক্ষকে, সেখানে একজন ফাস্ট বোলারের প্রতিটি ডেলিভারি যেন নিজের শরীরের ওপর এক একটি ছোটখাটো যুদ্ধ। সম্প্রতি বাংলাদেশের তরুণ গতি তারকা নাহিদ রানা ইনজুরি ও ফিটনেস নিয়ে এমন এক মন্তব্য করেছেন, যা ক্রিকেট অঙ্গনে বেশ চর্চিত হচ্ছে। তার ভাষায়, “যুদ্ধে নামলে যেমন গুলি খাওয়ার ভয় করলে চলে না, তেমনি ক্রিকেট খেললে চোটের ভয় করলে চলবে না।”

পেস বোলারদের শরীরে চাপের তীব্রতা কতটুকু?

বিজ্ঞান বলে, একজন পেস বোলার যখন বল ডেলিভারি করেন, তখন তার শরীরের ওপর নিজের ওজনের প্রায় ৮ থেকে ১০ গুণ চাপ পড়ে। এই অবিশ্বাস্য চাপের কারণগুলো হলো:

  • তীব্র দৌড় (Run-up): গতি অর্জনের জন্য দীর্ঘ দৌড়।

  • উচ্চ লম্ফ (Jump): বল করার আগ মুহূর্তে শরীরের ভারসাম্য বজায় রেখে লাফানো।

  • শরীরের মোচড় (Twisting): বল ছাড়ার সময় মেরুদণ্ড ও কাঁধের অস্বাভাবিক ঘূর্ণন।

বলের পর বল, ওভারের পর ওভার একইভাবে শরীরকে বাঁকিয়ে বা ঘুরিয়ে বল করার কারণে মেরুদণ্ড এবং পায়ের পেশীতে দীর্ঘমেয়াদী চাপ সৃষ্টি হয়। সাধারণত পেসারদের মেরুদণ্ডের নিচের অংশ, হ্যামস্ট্রিং এবং গোড়ালিতে ইনজুরি বেশি দেখা যায়। এই কারণেই অনেক সময় প্রতিভাবান পেসারদের ক্যারিয়ার অন্যান্য ক্রিকেটারদের তুলনায় ছোট হয়ে আসে।

নাহিদ রানার ৫ উইকেট ও ইনজুরি নিয়ে দর্শন

নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজ বাঁচানোর মরণ-বাঁচন লড়াইয়ে সম্প্রতি বাংলাদেশ জয় পেয়েছে নাহিদ রানার দুর্দান্ত বোলিং স্পেলের সৌজন্যে। মাত্র ৩২ রান দিয়ে ৫ উইকেট শিকার করে ম্যাচ সেরা হওয়া এই তরুণ কেবল বল হাতেই নয়, কথায়ও জয় করেছেন ভক্তদের হৃদয়। ইনজুরি প্রসঙ্গে তিনি অত্যন্ত বাস্তববাদী এক দর্শন তুলে ধরেন। রানা মনে করেন, চোট আসাটা ফুটবলের গোল বা ক্রিকেটের উইকেটের মতোই স্বাভাবিক। এটি মাথায় নিয়ে বোলিংয়ে জড়তা আনলে নিজের স্বাভাবিক ছন্দ হারিয়ে যায়।

ফিটনেস নিয়ে রানার বিশেষ প্রস্তুতি

দীর্ঘ সময় গতি ধরে রাখা এবং ক্লান্তিহীন বোলিং করার রহস্য হিসেবে নাহিদ রানা তার ফিটনেস রুটিনকে কৃতিত্ব দিয়েছেন। তিনি বলেন:

“আমি আমার ফিটনেস নিয়ে অনুশীলনের বাইরে এবং ভেতরে ট্রেনারদের সাথে নিয়মিত কাজ করি। কীভাবে ফিটনেস আরও উন্নত করা যায়, তা নিয়ে আলোচনা করি। এর ফলে মাঠে বল করার সময় আমি অনুভব করি যে আমি ক্লান্ত হচ্ছি না।”

শান্তর চোট প্রসঙ্গে স্বস্তির খবর

একই ম্যাচে ব্যাটিং করার সময় চোট পেয়েছিলেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। বিষয়টি নিয়ে সমর্থকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হলেও ম্যাচ শেষে নাহিদ রানা আশ্বস্ত করেন। তিনি জানান, প্রচণ্ড গরমের কারণে শান্তর পেশিতে টান লেগেছিল, তবে বড় কোনো ইনজুরি হয়নি। বর্তমানে তিনি সুস্থ আছেন।

পেস বোলারদের জীবনটা সত্যিই অনেকটা যুদ্ধের মতো। যেখানে গতিই শক্তি, আর ইনজুরি হলো সেই যুদ্ধের অনিবার্য অংশ। নাহিদ রানার মতো ইতিবাচক মানসিকতা থাকলে এই প্রতিকূলতা জয় করে দীর্ঘসময় দেশের হয়ে সেবা দেওয়া সম্ভব।

আরও পড়ুন: মিরপুরে ইতিহাস: পাকিস্তানকে হারিয়ে ওয়ানডে সিরিজ জিতলো বাংলাদেশ

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top