কারা অধিদপ্তরে ৪৭২ পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ২০২৬ — কারারক্ষী পদে আবেদন করুন আজই

কারা অধিদপ্তর নিয়োগ ২০২৬

বাংলাদেশের সরকারি চাকরির বাজারে এবার বড় একটি সুযোগ এনেছে কারা অধিদপ্তর। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ এই সরকারি প্রতিষ্ঠানটি তাদের রাজস্ব খাতভুক্ত শূন্য পদে (ইউনিফর্ম) সরাসরি জনবল নিয়োগের জন্য আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। মোট ৪৭২টি পদে নিয়োগ দেওয়া হবে, যেখানে কারারক্ষী ও মহিলা কারারক্ষী — এই দুটি ক্যাটাগরিতে প্রকৃত বাংলাদেশি নাগরিকেরা আবেদনের সুযোগ পাবেন। আগ্রহী এবং যোগ্য প্রার্থীদের জন্য আবেদনের শেষ সময় ৩০ এপ্রিল ২০২৬।

পদের বিবরণ ও সংখ্যা

কারা অধিদপ্তরের এই নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে দুটি পদ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে:

১. কারারক্ষী এই পদে মোট ৪৫০ জনকে নিয়োগ দেওয়া হবে। জাতীয় বেতন স্কেল ২০১৫ অনুযায়ী বেতন নির্ধারিত হবে ৯,০০০ থেকে ২১,৮০০ টাকা পর্যন্ত। সরকারি চাকরির অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা যেমন চিকিৎসা ভাতা, বাড়ি ভাড়া ভাতা, পেনশন সুবিধাসহ আনুষঙ্গিক সুবিধাদিও প্রযোজ্য হবে।

২. মহিলা কারারক্ষী এই পদে ২২ জন মহিলা প্রার্থীকে নিয়োগ দেওয়া হবে। বেতন স্কেল একইভাবে ৯,০০০ থেকে ২১,৮০০ টাকা নির্ধারিত।

শিক্ষাগত যোগ্যতা

উভয় পদের জন্যই ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধারণ করা হয়েছে বাংলাদেশের যেকোনো স্বীকৃত শিক্ষাবোর্ড থেকে মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (SSC) বা সমমানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া। উচ্চশিক্ষিত প্রার্থীরাও আবেদন করতে পারবেন, তবে শুধুমাত্র নির্ধারিত শর্ত পূরণ সাপেক্ষে।

শারীরিক যোগ্যতার শর্তাবলি

কারারক্ষী পদটি শারীরিক সক্ষমতা-নির্ভর। তাই প্রার্থীদের নির্দিষ্ট শারীরিক মান পূরণ করতে হবে। কারারক্ষী ও মহিলা কারারক্ষী — উভয় পদের জন্যই প্রার্থীর উচ্চতা কমপক্ষে ১.৬৭ মিটার বা ৫ ফুট ৬ ইঞ্চি হতে হবে। এছাড়াও নির্বাচন প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে শারীরিক দক্ষতা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে, যার বিস্তারিত নিচে আলোচনা করা হয়েছে।

বয়সসীমা

এই নিয়োগের জন্য বয়সসীমা তুলনামূলকভাবে সংকীর্ণ। ১ এপ্রিল ২০২৬ তারিখ অনুযায়ী প্রার্থীর বয়স সর্বনিম্ন ১৮ বছর এবং সর্বোচ্চ ২১ বছর হতে হবে। বয়স প্রমাণের জন্য জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) অথবা জন্ম নিবন্ধন সনদ গ্রহণযোগ্য হবে। তবে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, জন্ম নিবন্ধন সনদ দাখিলের ক্ষেত্রে অবশ্যই জাতীয় পরিচয়পত্রের জন্য অনলাইনে করা আবেদনের কপি বা স্লিপ সংযুক্ত করতে হবে। কোনো এফিডেভিট বয়সের প্রমাণ হিসেবে গ্রহণ করা হবে না।

আবেদনের গুরুত্বপূর্ণ শর্তসমূহ

আবেদনের আগে নিচের শর্তগুলো ভালোভাবে পড়ে নেওয়া জরুরি:

নাগরিকত্ব: প্রার্থীকে অবশ্যই বাংলাদেশের স্থায়ী নাগরিক হতে হবে এবং বৈধ জাতীয় পরিচয়পত্র বা এর আবেদনের কপি থাকতে হবে।

বৈবাহিক অবস্থা: আবেদনকারীকে অবশ্যই অবিবাহিত হতে হবে। বিবাহিত প্রার্থীরা এই নিয়োগে অযোগ্য বিবেচিত হবেন।

চাকরিরত প্রার্থী: যারা ইতোমধ্যে সরকারি, আধাসরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে কর্মরত আছেন, তাদের যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে আবেদন করতে হবে এবং মৌখিক পরীক্ষার সময় কর্তৃপক্ষের অনাপত্তিপত্র উপস্থাপন করতে হবে।

আপডেট: বিজ্ঞপ্তি সংক্রান্ত যেকোনো পরিবর্তন বা সংশোধনী কারা অধিদপ্তরের অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে।

নির্বাচন প্রক্রিয়া — ধাপে ধাপে পরীক্ষা

এই নিয়োগের নির্বাচন প্রক্রিয়া তিনটি ধাপে সম্পন্ন হবে:

ধাপ ১: প্রাথমিক শারীরিক ও দক্ষতা পরীক্ষা প্রথমেই প্রার্থীদের শারীরিক সক্ষমতা যাচাই করা হবে। এতে অন্তর্ভুক্ত থাকবে — দৌড়, পুশ-আপ, হাই জাম্প, লং জাম্প এবং রোপ ক্লাইম্বিং। এছাড়াও প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা পরিচালিত হবে।

ধাপ ২: লিখিত পরীক্ষা (MCQ) শারীরিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীরাই কেবল MCQ পদ্ধতিতে লিখিত পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবেন।

ধাপ ৩: মৌখিক পরীক্ষা (ভাইভা) লিখিত পরীক্ষায় কৃতকার্য প্রার্থীদের মৌখিক পরীক্ষায় ডাকা হবে।

প্রতিটি ধাপের তারিখ, সময় ও স্থান প্রার্থীদের এসএমএসের মাধ্যমে জানানো হবে। কারা অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটেও এ তথ্য প্রকাশ পাবে।

আবেদন ফি

আবেদনের জন্য মোট ৫৬ টাকা পরিশোধ করতে হবে — এর মধ্যে মূল আবেদন ফি ৫০ টাকা এবং টেলিটকের সার্ভিস চার্জ ৬ টাকা। আবেদনপত্র জমা দেওয়ার পর অনধিক ৭২ ঘণ্টার মধ্যে টেলিটক প্রিপেইড মোবাইল নম্বর থেকে এই ফি পরিশোধ করতে হবে।

কীভাবে আবেদন করবেন

আগ্রহী প্রার্থীরা সম্পূর্ণ অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন। আবেদনের ঠিকানা: https://prison.teletalk.com.bd

এই ওয়েবসাইটে আবেদন ফর্ম পূরণের বিস্তারিত নির্দেশিকা, ফি পরিশোধের পদ্ধতি এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের তালিকা পাওয়া যাবে।

গুরুত্বপূর্ণ তারিখসমূহ

বিষয় তারিখ ও সময়
আবেদন শুরু ৯ এপ্রিল ২০২৬, সকাল ১০:০০
আবেদনের শেষ দিন ৩০ এপ্রিল ২০২৬, বিকেল ৫:০০
পরীক্ষার তারিখ পরবর্তীতে SMS-এর মাধ্যমে জানানো হবে

কেন এই চাকরি আপনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ

কারারক্ষী পদটি একটি সম্মানজনক সরকারি চাকরি যা রাষ্ট্রের নিরাপত্তা কাঠামোর অংশ। চাকরি স্থায়িত্ব, নিয়মিত বেতন ও ভাতা, সরকারি আবাসন সুবিধা এবং পেনশন ব্যবস্থাসহ দীর্ঘমেয়াদী ক্যারিয়ার গড়ার সুযোগ এখানে রয়েছে। বিশেষ করে, সদ্য এসএসসি পাস করা তরুণ প্রার্থীদের জন্য এটি একটি আদর্শ সুযোগ।

বিজ্ঞপ্তিটির সর্বশেষ আপডেট এবং সরকারি নির্দেশনার জন্য কারা অধিদপ্তরের অফিশিয়াল ওয়েবসাইট নিয়মিত ফলো করুন।

আরও পড়ুন: চাকরি ছাড়ার পর কোম্পানি NOC বা ক্লিয়ারেন্স দিচ্ছে না? জেনে নিন আপনার আইনি অধিকার ও করণীয়

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top