বাংলাদেশের অর্থনৈতিক চাকা সচল রাখতে রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের ভূমিকা অপরিসীম। দেশের এই বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের প্রধান উৎস হলো শ্রমবাজার। সম্প্রতি জাতীয় সংসদ অধিবেশনে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নূর দেশের শ্রমবাজার নিয়ে অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক কিছু তথ্য প্রদান করেছেন। বর্তমানে বাংলাদেশ থেকে কর্মী পাঠানোর লক্ষ্যে বিশ্বের ১৮টি দেশের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক বা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।
মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার নিয়ে নতুন সম্ভাবনা
সৌদি আরবের পর বাংলাদেশের কর্মীদের জন্য অন্যতম বড় বাজার হলো মালয়েশিয়া। দীর্ঘদিনের জটিলতা কাটিয়ে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় উন্মুক্ত করার লক্ষ্যে সরকার নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। এই উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ উদ্যোগে গত এপ্রিল মাসের ৮ থেকে ১১ তারিখ পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মাহদী আমিন এবং মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী দেশটি সফর করেছেন। মালয়েশিয়া সরকারের সাথে এই ফলপ্রসূ আলোচনার ফলে আশা করা যাচ্ছে, খুব দ্রুতই দেশটিতে বাংলাদেশি কর্মীদের যাওয়ার পথ সুগম হবে।
বন্ধ ও সংকুচিত শ্রমবাজার পুনরুদ্ধারে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা
মধ্যপ্রাচ্যের বেশ কিছু দেশে বাংলাদেশের শ্রমবাজার বর্তমানে সংকুচিত বা বন্ধ অবস্থায় রয়েছে। বিশেষ করে ওমান, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন এবং মালয়েশিয়ায় নিয়মিত কর্মী পাঠানোর লক্ষ্যে কূটনৈতিক আলোচনা জোরদার করা হয়েছে। এছাড়া যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে মধ্যপ্রাচ্যের যেসব দেশে কর্মীদের ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে গিয়েছিল, সরকারের বিশেষ প্রচেষ্টায় পর্যায়ক্রমে তাদের ভিসার মেয়াদ বৃদ্ধি করা হচ্ছে।
১ লাখ ড্রাইভার ও জাপানি ভাষা শিক্ষায় গুরুত্ব
বিদেশে দক্ষ কর্মী পাঠানোর লক্ষ্যে সরকার বর্তমানে বেশ কিছু কারিগরি প্রকল্প হাতে নিয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:
-
ড্রাইভিং প্রশিক্ষণ: দেশে ও বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টিতে ১ লাখ ড্রাইভার তৈরির লক্ষ্যে একটি বিশেষ প্রকল্প চলমান রয়েছে।
-
জাপান সেল গঠন: জাপানের সঙ্গে স্বাক্ষরিত চুক্তির আওতায় আগামী ৫ বছরে ১ লাখ কর্মী পাঠানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এজন্য জাপানি ভাষা শিক্ষাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে এবং আলাদাভাবে একটি ‘জাপান সেল’ গঠন করা হয়েছে।
আগামী ৫ বছরের লক্ষ্যমাত্রা: ১ কোটি কর্মসংস্থান
সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী, আগামী পাঁচ বছরে ১ কোটি মানুষের বৈদেশিক কর্মসংস্থানের পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী জানান, এই বিশাল লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ১৮০ দিনের একটি স্বল্পমেয়াদী রোডম্যাপ এবং পাঁচ বছরের দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা তৈরি করা হয়েছে। ইতোমধ্যে ২০২৫ সালে ১১ লাখ ৩২ হাজার ৫১৯ জন কর্মী বিদেশে কর্মসংস্থান লাভ করেছেন, যার মধ্যে ৬২ হাজার ৩৫২ জন নারী কর্মী রয়েছেন।
থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার মতো দেশগুলোতেও নতুন করে শ্রমবাজার তৈরির সম্ভাবনা যাচাই করা হচ্ছে। প্রতিমন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন যে, সরকারের এই সময়োপযোগী পদক্ষেপগুলোর সুফল আগামী ছয় মাসের মধ্যেই দৃশ্যমান হবে।
আরও পড়ুন: আমেরিকা ভ্রমণে নতুন চার্জ: ভিসা ইন্টিগ্রিটি ফি যোগে খরচ বাড়লো কত?